

আসামে বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার বদলে বিরোধী দল ভাঙানোর খেলায় বেশি জোর দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার কংগ্রেসের এক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। নগাঁও আসনের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ এদিন দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দেন। সাংবাদিকদের সামনে বরদলৈকে বিজেপির উত্তরীয় পরিয়ে দলে বরণ করে নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এরপর বরদলৈকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কিছুদিন আগে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভুপেন বোরাও বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের ছেলে প্রতীক বরদলৈকে এবার মার্ঘেরিটা কেন্দ্রে কংগ্রেস টিকিট দিয়েছে। এখন মার্ঘেরিটায় কংগ্রেস তাদের প্রার্থী বদল করবে কিনা, তা জানা যায় নি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ বলেন, 'প্রদ্যুৎ বরদলৈ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ হয়েছেন। এর আগে কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। এবার তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে বিধানসভায় টিকিট প্রদান করেছে কংগ্রেস। এতো কিছুর পরও তাঁর দলত্যাগ দূর্ভাগ্যজনক।'
বরদলৈর দলত্যাগকে দূর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা আসাম কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, প্রদ্যুৎ বরদলৈকে বিধানসভায় টিকিট দেবে বিজেপি। বিজেপি এখনো তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি। গুয়াহাটিতে কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার ও বুধবার দিল্লিতে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। দিল্লিতে ঘাঁটি গেড়েছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া সহ বিজেপির রাজ্যস্তরের সকল শীর্ষ নেতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলবদলুদের টিকিট দিতে পারে বিজেপি। টিকিট না পেলে পুরোনো কর্মীদের অনেকে দল ছাড়তে পারেন, এই আশংকাও তৈরি হয়েছে। তাছাড়া, টিকিট নিয়ে হিমন্তবিশ্ব শর্মা ও সর্বানন্দ সনোয়াল দুই শিবিরে দড়ি টানাটানি চলছে। হিমন্ত নিজের পছন্দের লোকদের টিকিট পাইয়ে দিতে মরিয়া চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের কংগ্রেস ও রাইজর দলের মধ্যে এখনো জট কাটেনি। দুই দলের আসন সমঝোতা নিয়ে মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু অখিল গগৈ এখনো এক্ষেত্রে তাঁর মত স্পষ্ট করেননি। তবে বিরোধী জোটের মধ্যে কংগ্রেস ইতোমধ্যে ৬৫ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। সিপিআই(এম) দুটি আসন, আসাম জাতীয় পরিষদ দশটি, এপিএইচএলসি পাঁচটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন