সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ আসনে জয়ী হলেও ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই রক্তক্ষরণ অব্যাহত তৃণমূল শিবিরে। গতকালই ফলতার পুনঃনির্বাচনের ফলাফলে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে তৃণমূল। রবিবারই দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। আর এবার খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মণ্ডহারবারের অন্তর্গত ডায়মণ্ডহারবার পুরসভার ৮ কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখের দিকে চেয়ে তাদের এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো তৃণমূল।
সোমবার এসডিও-র কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ৮ তৃণমূল কাউন্সিলর। পদত্যাগ করার এক তৃণমূল কাউন্সিলর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে রাজ্যের উন্নয়নের কথা বলছেন তাতে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত, এর আগে ফলতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে একই কথা বলেছিলেন এলাকার একসময়ের ত্রাস তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর। তিনিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
গত ৪ঠা মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবার পর থেকেই তৃণমূলে ধস অব্যাহত। একই সাথে একাধিক প্রথম সারির তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এ সবের মাঝেই রাজ্যের একাধিক পুরসভায় পালাবদলের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর বারাকপুর, কাঁথি সহ বিভিন্ন পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা হয় পদত্যাগ করেছেন অথবা শিবির বদলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা জনরোষের মুখেও পড়েছেন।
শেষবার রাজ্যে পুর নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালে। যে পুর নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেবার একমাত্র তাহেরপুর এবং দার্জিলিং ছাড়া রাজ্যের আর কোনও পুরসভায় বিরোধীরা জয়ী হয়নি। মোট ১০২টি পুরসভার ১৯৭৭ আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। সেবারের নির্বাচনে রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভাকে বিজেপি ৬৩ ওয়ার্ডে জয়ী হলেও কোনও পুরসভা দখল করতে পারেনি। অন্যদিকে বামফ্রন্ট জয়ী হয় ৫৬ পুরসভা আসনে এবং তাহেরপুরে ক্ষমতা দখল করে। হামরো পার্টি ১৮ আসনে জয়ী হয় এবং ১ পুরসভা দখল করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন