

গতকালই নন্দীগ্রামে ভাঙন ধরেছিল বিজেপি শিবিরে। তৃণমূলের বর্তমান সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পবিত্র কর। ওইদিনই বিকেলেই জায়গা পেয়ে গেছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাতেও। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ভাঙন নন্দীগ্রামের বিজেপি শিবিরে।
গতকাল পবিত্র করের তৃণমূলে যোগদানের পর বুধবার বিকেলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। উল্লেখযোগ্যভাবে শিউলি করও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি বয়াল ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। পরপর দু’দিনে বিজেপির দুই নেতা নেত্রীর দল ছাড়ায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এলাকায় নিঃসন্দেহে চাপে পড়তে চলেছেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতি করতেন মূলত পবিত্র করের ওপর ভরসা করে। কারণ পবিত্র কর নন্দীগ্রাম অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাবশালী। ২০২১ সালে ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে তিনি বিজেপিতে যোগ দেননি।
জানা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর আগেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছিলেন বলেই খবর। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অটুট ছিল বলেই স্থানীয়দের অভিমত।
নিজের একদা ঘনিষ্ঠ বিরুদ্ধ দলের প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় শুভেন্দু অধিকারী কিছুটা হলেও সমস্যার মুখে পড়বেন বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে পবিত্র কর যথেষ্ট পরিচিত মুখ এবং এলাকায় তাঁর ভালোরকম প্রভাব আছে।
পবিত্র করের তৃণমূলে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন দলের সাংসদ এবং সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে গতকাল পবিত্র করের যোগদান প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, পবিত্রবাবুর এই যোগদান প্রমাণ করে দিল, নন্দীগ্রামের মানুষ এবার বেইমানি আর বঞ্চনার রাজনীতিকে ছুঁড়ে ফেলে উন্নয়নের জোয়ারে গা ভাসাতে তৈরি। আমাদের বিশ্বাস, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন