CPIM: ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন রেখে ভোট ঘোষণার প্রতিবাদ - আদালতের দ্বারস্থ হবে সিপিআইএম

People's Reporter: সেলিমের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে আগেই ভোটের ফল নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি, মতুয়া, বিবাহিত মহিলা, তরুণ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সিপিআইএম এম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম
সিপিআইএম এম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ফাইল ছবি নিজস্ব চিত্র
Published on

অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা রেখে নির্বাচন ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানাল সিপিআই(এম)। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক নাম এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিম জানান, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ না করেই নির্বাচন ঘোষণার বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে আগেই তালিকা সম্পূর্ণ করার পর ভোট ঘোষণার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা মানা হয়নি।

সেলিমের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগেই ভোটের ফল নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। নির্দিষ্ট বুথ, এলাকা ও বিধানসভা বেছে বহু ভোটারের নাম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি সম্প্রদায়, মতুয়া, বিবাহিত মহিলা এবং তরুণ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘ম্যাপিং’-এর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’-র অজুহাতে বহু ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রেখে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, বিএলও থেকে সিইও পর্যন্ত অনেক আধিকারিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন।

সেলিম আরও বলেন, বিজেপি ও আরএসএসের ইচ্ছা পূরণ করতেই নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম জানান, বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। শরিক দলগুলির নেতারাও সেই ঘোষণায় উপস্থিত থাকবেন। সোমবারই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে পারে। যেহেতু ভোট দুই দফায় হচ্ছে, তাই প্রার্থী তালিকাও দুই ধাপে প্রকাশ করা হতে পারে।

ডিএ ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৯ মার্চ রাজ্য সরকার আদালতে গিয়ে বকেয়া ডিএ দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছিল এবং জানিয়েছিল যে রাজ্যের কাছে অর্থ নেই। কিন্তু ১৩ মার্চ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের সফল ধর্মঘটের পর হঠাৎ ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করা হলো। সেলিমের দাবি, কর্মচারীদের আন্দোলনের চাপে মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের সময় বাহিনী নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কিন্তু মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কি না এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না। প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকায় থাকবে এবং মৃত ভোটারদের নাম বাদ যাবে কিনা, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সেলিম জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে বামফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও পৃথক ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

গিরিশ পার্কের ঘটনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সেলিম বলেন, সেটি বিজেপি ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। তাঁর মতে, আসল হিংসার উদাহরণ মণিপুর, দিল্লি বা উত্তর প্রদেশে দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যেসব পর্যবেক্ষক পাঠাবে, তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। ভোট লুটের অভিযোগ জানানো হলেও অনেক সময় ফোন পর্যন্ত ধরা হয় না। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘তামাশা’ বলে উল্লেখ করেন।

শেষে সেলিম বলেন, বাংলাকে বাঁচাতে হলে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। সেই লড়াইয়েই সিপিআই(এম) এগিয়ে যাবে।

সিপিআইএম এম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম
WB Assembly Poll 2026: ২০০১-এর পর রাজ্যে ফের কমলো ভোটের দফা, কোন জেলায় কবে ভোট?
সিপিআইএম এম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম
WB Assembly Polls 2026: বাদ যাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক বিধায়ক? তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় থাকবে একাধিক চমক

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in