

তৃণমূল ও বিজেপি - রাজ্যের দুই অপশক্তির সাঁড়াশি আক্রমণ থেকে পুরুলিয়া সহ রাজ্যকে মুক্ত করতে লাল ঝান্ডাই একমাত্র বিকল্প। সোমবার পুরুলিয়ার বোঙ্গাবাড়িতে এক নির্বাচনী কর্মীসভায় একথা জানালেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সভা থেকে মহম্মদ সেলিম বলেন, বাম বিকল্পই একমাত্র পথ এবং এই পথেই বাংলার পুনরুত্থান ঘটবে।
এদিন পুরুলিয়ায় কর্মীসভায় সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, পুরুলিয়ার মাটি বীরের মাটি, প্রতিরোধের মাটি। কীভাবে আকাশ থেকে অস্ত্র বর্ষণ করে লাল ঝান্ডাকে স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল এই জনপদ তা দেখেছে। এই জেলা দেখেছে কীভাবে মাওবাদীদের নাম করে গ্রামকে গ্রাম আতঙ্ক ছড়িয়ে আমাদের শত শত কমরেডকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু শত শহীদের রক্তে রাঙানো লাল ঝান্ডাকে এত সহজে মুছে ফেলা যায় না, যাবে না। এই জনসমুদ্র ফের তা প্রমাণ করে দিল।
মহম্মদ সেলিম আরও বলেন, আগে মানুষ যখন অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলতো, তখন দিক ঠিক করতো আকাশের ধ্রুবতারা দেখে। আর আজ রাজনীতির এই ঘোর অন্ধকারে মানুষের সামনে সেই ধ্রুবতারা হলো কৃষকের কাস্তে আর শ্রমিকের হাতুড়ি। মানুষের রুজি-রুটি ও মজুরির দাবিতে লড়াইতে সেই লালঝান্ডাকেই আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাম বিকল্পই একমাত্র পথ। এই পথেই বাংলার পুনরুত্থান ঘটবে।
তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে সেটিং-এর রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য বলেন, এরা যখনই দেখছে লাল ঝান্ডা এগিয়ে আসছে, তখনই গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে। সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের বিষ ছড়ানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, তৃণমূল বিজেপি ভাই ভাই, বাংলাকে বাঁচাতে লালঝান্ডা চাই।
তিনি আরও বলেন, এসডিও, বিডিও’রা আজ মমতার দলদাসে পরিণত হয়েছেন। এতদিন ধরে যারা এতদিন কয়লা, গরু, বালি পাচার, শিক্ষক নিয়োগের দালালি করেছে, তারাই এখন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কিন্তু বামপন্থীরা বেঁচে থাকতে কোনো বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
এদিনের সভা থেকেই সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে আগামী ৪ মার্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়। সাফ জানানো হয়, কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে এরাজ্যে ভোট হতে দেওয়া হবে না।
এদিনের সভায় মহম্মদ সেলিম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আভাষ রায়চৌধুরী, সুদীপ সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য সিপিআইএম নেতৃত্ব। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন