রাজ্যের মানুষ আর কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাজ্যে জায়গা দিতে রাজি নন। সম্প্রীতির ভিতে নতুন বাংলা গড়ে তোলার জন্য বামপন্থীরা লড়াই করছে। তৃণমূল এবং বিজেপি রাজ্যে বারবার বিভাজন তৈরি করছে। বামপন্থীদের লড়াই এর বিরুদ্ধে। রবিবার সাংবাদিকদকের মুখোমুখি হয়ে একথা জানিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
রবিবার কলকাতায় রাজ্যের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর স্মরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন করলে মহম্মদ সেলিম বলেন, মানুষ একবার পরিবর্তন দেখেছে। সেদিন যারা বামফ্রন্টকে হটানোর কথা বলেছিলেন, আজ তাঁরা বুঝেছেন খুব অন্যায় হয়ে গেছে। এঁদের অনেককেই সেই সময় হোরডিং-এ দেখা যেত। এখন তাঁদের অনেকেই মুখ লুকিয়েছেন।
মহম্মদ সেলিম আরও বলেন, লালকৃষ্ণ আদবানীর রথযাত্রার সময়কার পরিস্থিতি মানুষ দেখেছে। দেশজুড়ে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ৩৬৫ জেলায় দাঙ্গা হয়েছিল। বিজেপি আজ আবার সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। মমতা ব্যানার্জিও তাই চাইছেন। একদিকে আমরা বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আর অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপি বারবার বিভাজনের রাজনীতি টেনে আনতে চাইছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, আজ রাজ্যের মানুষ বলছেন এ রাজ্যের বুকে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির জায়গা নেই। ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়ে আমরা আবার নতুন বাংলা গড়বো। সেখানে বিজেপি তৃণমূলের কোনও নাটক চলবে না। সেই বাংলায় হিন্দু মুসলমান কাউকে আলাদা ভাবে দেখা হবে না।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের শনিবার রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হয়েছে। কোচবিহারে রাসমেলার মাঠ থেকে যাত্রার সূচনা করেন বিজেপি’র জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। আজ সোমবার পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিতে রাজ্যে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব।
গতকাল সাংবাদিকরা বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে মহম্মদ সেলিম জানান, আমাদের প্রার্থী তালিকা আই প্যাকের অফিসে থাকে না। ইতিমধ্যেই শনিবার বামফ্রন্টের বৈঠক হয়েছে। ছ'ভাগের মধ্যে পাঁচ ভাগ আসনেই আমাদের সমঝোতা হয়ে গেছে। যেটুকু বাকি আছে তাও দ্রুত সেরে ফেলা হবে। বিজেপি তৃণমূলের আগেই আমরা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করব।
প্রার্থী তালিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে পারে এমন বিভিন্ন শক্তি, মহিলাদের মধ্যে যারা কাজ করছেন, আদিবাসী তপসিলিদের মধ্যে যারা কাজ করছেন, এমন বিভিন্ন শক্তির সঙ্গেও আমরা কথা বলছি। ৬ ভাগের ৫ ভাগ যখন করতে পেরেছি তখন বাকিটুকুও করে নেওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, যারা ভাগাভাগির রাজনীতির পক্ষে থাকবে না তারা সবাই বামপন্থীদের সঙ্গে থাকবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন