

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর নাম এপস্টিন ফাইলে আসার ঘটনায় মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি জানালো সিপিআইএম পলিটব্যুরো। সিপিআইএম-এর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি ‘সব ধরণের কৌশল’ অবলম্বন করে মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সিপিআইএম পলিটব্যুরো জানিয়েছে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং শিল্পপতি অনিল আম্বানির জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে এপস্টিন ফাইল নিয়ে আলোচনার অনুমতি দেয়নি। মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সাংবাদিক সম্মেলনে মিথ্যে বলতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে। তবুও হরদীপ পুরীকে বরখাস্ত করার পরিবর্তে সমস্ত রকম কৌশলে তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিনের বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, এপস্টিন ফাইলসের অত্যন্ত ঘৃণ্য এবং ন্যাক্কারজনক বিষয়বস্তু প্রতিদিনই উন্মোচিত হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিশাল ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তথ্য বেরিয়ে আসছে। রাজনীতিবিদ, অর্থবান, শীর্ষ স্থানীয় প্রযুক্তিকর্তা এবং খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষমতাশালী শ্রেণীর এই নেটওয়ার্কের আগ্রাসী অপরাধমূলক প্রকৃতি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, যারা এই অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন, যার প্রধান সহায়তাকারী ছিলেন এপস্টিন। বেশ কয়েকটি দেশে সুনির্দিষ্ট আইনি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে তাদের নিজ নিজ দেশে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অপসারণ দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে, পলিটব্যুরো স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছে যে, জাতীয় লজ্জা ও কলঙ্ক দূর করতে প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে হরদীপ সিং পুরীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করুন।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকার বিচার বিভাগ এই সংক্রান্ত যে নথি সামনে এনেছে তাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে মেল চালাচালির কথা উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর।
সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই বিষয় নিয়ে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। চাপের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী স্বীকার করে নেন যে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কয়েকবার দেখা হয়েছিল। যদিও মন্ত্রী দাবী করেন, এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবেই তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের দেখা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন হরদীপ সিং পুরী। ২০১৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন।
জেফরি এপস্টিন ফাইল প্রকাশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে সারা বিশ্ব। যৌন হেনস্থা, নাবালিকা পাচার, ধর্ষণ সহ একাধিক ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। কমপক্ষে ৪০ জন মহিলা এপস্টিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। গ্রেপ্তারির পর বিচারে তাঁর ৪৫ বছরের জেল হয়। ২০১৯ সালে জেলের মধ্যেই আত্মঘাতী হন এপস্টিন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন