

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভারত মাতাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজেট প্রস্তাবের উপর বিতর্ক চলাকালীন বুধবার মোদী সরকারকে নিশানা করে রাহুল বলেন, ‘’আমি বিশ্বাস করি না, কোনও প্রধানমন্ত্রী দেশকে এভাবে বেচে দিতে পারেন। নরেন্দ্র মোদীও করবেন না। কিন্তু তাঁর উপরে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর গর্দান কেউ চেপে ধরেছে। অনেক মার্শাল আর্টে প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করার কৌশল হল, ঘাড় চেপে শ্বাসরোধ করা। এতে প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ করে দেন। এখানেও তাই হয়েছে। একদিকে এপস্টিন ফাইল, অন্যদিকে আমেরিকার বিচার বিভাগ কর্তৃক ঘুষের চেষ্টার মামলায় গৌতম আদানিকে তলব। বিজেপির আর্থিক ভিতেই আঘাত এসেছে।‘’
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি রতের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা সংক্রান্ত চুক্তি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চুক্তিতে শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা’ প্রত্যাহারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত হিসাবে আমেরিকার কাছ থেকে বছরে ৫০,০০০ কোটি ডলারেরও (৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্য কিনতে দায়বদ্ধ থাকবে ভারত।
এই চুক্তি নিয়েই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, “যদি ‘ইন্ডিয়া’ (বিজেপি বিরোধী জোট) ক্ষমতায় থাকত, তা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় দ্বিপাক্ষিক সমমর্যাদার প্রশ্নে আপস করত না। আমরা ট্রাম্পকে বলতাম, আমাদের আপনার সমকক্ষ ধরে কথা বলতে হবে। চাকর ভেবে কথা বললে চলবে না। কিন্তু মোদীর সরকার ভারত মাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে। ভারতের মাটিতে মার্কিন পণ্যের অবাধ অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়ে দেশের কৃষকদের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তোলার বন্দোবস্ত করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা বন্ধক দিয়েছে আমেরিকার কাছে।‘’
তাঁর আরও অভিযোগ, দেশের মানুষের ‘ডেটা’ আমেরিকার হাতে তুলে দিচ্ছে মোদী সরকার। ডিজিটাল বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে। দেশের সম্পদ আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘’ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী আগে এ কাজ করেননি। এরপরেও আর কোনও প্রধানমন্ত্রী এই কাজ করবেন না।’’
কেন্দ্রীয় সংসদীয়মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘’রাহুলের বক্তৃতা মিথ্যায় ভরা। আমরা তা লোকসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হব। সংসদের ভেতরে একটি প্রস্তাব আনা হবে। আমাদের দল অবস্থান নিয়েছে যে, আমরা রাহুলের মিথ্যাচারের প্রতিবাদ বাইরেও করব।’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন