

আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের দায়ের করা এক মানহানির মামলায় সাংবাদিক রবি নায়ারের ১ বছরের কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিল গুজরাটের গান্ধীনগরের এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সংবাদসংস্থা এবং দ্য স্ক্রল-এর সূত্র অনুসারে, মামলায় সাংবাদিক রবি নায়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
কী সাজা শোনানো হয়েছে?
লাইভ ল’র প্রতিবেদন অনুসারে, গুজরাট গান্ধীনগরের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট সাংবাদিক রবি নায়ারকে এক ফৌজদারি মানহানির মামলায় এক বছরের কারাদন্ড এবং আর্থিক জরিমানার সাজা শুনিয়েছে।
ধনকুবের শিল্পপতি গৌতম আদানি গ্রুপের প্রধান সংস্থা আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের (AEL) দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে (Adani Enterprises Limited vs Ravi Nair) এই মামলা হয়। রবি নায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, এক্স-এ একাধিক পোস্ট প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, যেখানে আদানি সংস্থার সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য লেখা হয়েছে।
আদানি গোষ্ঠীর আরও অভিযোগ, সাংবাদিক রবি নায়ার জনসাধারণ এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে সংস্থার সুনাম নষ্টের উদ্দেশ্যে এই ধরণের পোষ্ট করেছিলেন। যা কোনও বৈধ বা ন্যায্য সমালোচনা নয়।
এই মামলার বিষয়ে ওপর এক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, আদালতে রবি নায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলা প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে বা ডিজিটাল প্যাল্টফর্মে কোনও বিবৃতি বা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তার প্রভাব সম্পর্কে রবি নায়ারের যথেষ্ট সচেতন থাকা উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন এই ধরণের কোনও প্রতিবেদন জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালত আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত কঠোর না হয়েও সামান্য সাজা এবং আর্থিক কারাদন্ড তাঁকে সতর্ক করার জন্য।
কোন অভিযোগে এই সাজা?
আদানি সংস্থার অভিযোগ, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে, নায়ার তার এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একাধিক টুইট এবং “adaniwatch.org” নামক একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। যেখানে আদানি গ্রুপের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি পুঁজিবাদ, পরিবেশগত আইনের হেরফের, সরকারি সংস্থার অপব্যবহার এবং অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদানি সংস্থার দাবি তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভুয়ো, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেহেতু আদানি সংস্থা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে তাদের কাজকর্ম করে এই ধরণের প্রতিবেদনে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম নষ্ট হয়েছে।
কী জানিয়েছেন সাংবাদিক রবি নায়ার?
যদিও আদানি গোষ্ঠীর আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক রবি নায়ার। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সাংবাদিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনস্বার্থে তিনি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, যেসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ট্যুইট করেছিলেন সেই সব তথ্যই পাবলিক ডোমেনে পাওয়া যায় এবং তা বাকস্বাধীনতার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত। তাঁর প্রতিবেদনে ন্যায্য সমালোচনা করা হয়েছিল এবং তা কোনোভাবেই মানহানির সমান নয়।
রায় প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের এক কবিতার উল্লেখ করে গতকাল নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রবি নায়ার জানিয়েছেন, : “হাম দেখেঙ্গে”।
রবি নায়ার সম্পর্কে
রবি নায়ার একজন সাংবাদিক এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে একজন কর্মী এবং তিনি মানবাধিকারের একজন সমর্থক হিসেবে খ্যাতিমান। গত কয়েক দশক ধরে তিনি দেশে এবং বিদেশে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং নাগরিক স্বাধীনতা সংগঠনের সাথে জড়িত। গণতান্ত্রিক অধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথিভুক্তকরণে তার প্রচেষ্টার জন্য তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন