

আদানি গোষ্ঠীর কোন শেয়ারের দাম কত পড়েছে?
মার্কিন মুলুকে আদানিদের সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে নড়াচড়া শুরু হতেই আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দামে ধস নেমেছে। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় দেখে গেছে আদানি গ্রিন এনার্জির শেয়ারের দাম কমেছে ১৪.৬৩ শতাংশ, আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারের দাম কমেছে ১০.৭৬ শতাংশ এবং আদানি পাওয়ারের দাম কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এছাড়াও দাম পড়েছে আদানি পোর্টস (৭.৫২%), আদানি টোট্যাল গ্যাস (৫.৭১%), এসিসি (৩.৩২%), অম্বুজা সিমেন্ট (৫.০১%), আদানি এনার্জি সলিউশন (১১.৯৭%), এনডিটিভি (৪.৫৬%) প্রভৃতি আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের। ফলে আদানি গোষ্ঠীভুক্ত শেয়ারের বাজারি মূলধন (Market Capitalization) একদিনে কমেছে ১২.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার।
এসইসি ফের মার্কিন আদালতের দ্বারস্থ কেন?
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঘুষের প্রস্তাব ও জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় আমেরিকার শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউ এস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (US Securities and Exchange Commission – SEC) ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে সাহায্য চেয়েছিল ভারত সরকারের। এই মামলায় নাম ছিল ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানির। এসইসি নিউইয়র্কের আদালতে জানিয়েছিল, ঘুষকাণ্ডের তদন্তের জন্য ভারত সরকারের সাহায্য প্রয়োজন। কারণ গৌতম আদানি এবং সাগর আদানি ভারতে থাকেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের আইনি নোটিশ দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রকের সাহায্য প্রয়োজন। এই ঘটনার জেরেই গত কয়েকদিনে ধস নেমেছে আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন শেয়ারে।
ভারত সরকারের বক্তব্য কী?
এসইসি-র অভিযোগ, দীর্ঘ একবছর ধরে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সদর্থক সাড়া না পেয়ে তারা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। কমপক্ষে দু’বার ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রক গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে সমন পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মন্ত্রকের মতে, হেগ কনভেনশন চালু করার বা সমন জারি করার ক্ষমতা এসইসি-র নেই।
কী বলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম?
ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, এর পরেই সম্প্রতি গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে আইনি নোটিশ পাঠাতে চেয়ে আমেরিকার এক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এসইসি। ব্রুকলিনে বিচারপতি নিকোলাস গারাউফসের (Nicholas Garaufis) কাছে এই আবেদন জমা পড়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গৌতম আদানিকে আইনি সমন জারি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ইউএস এসইসি চায় বিচারক এমন ব্যবস্থা করুন যাতে এই ভারতীয় ধনকুবেরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কথিত এই জালিয়াতি এবং ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি ও গ্রুপ নির্বাহী সাগর আদানিকে ব্যক্তিগতভাবে ইমেলের মাধ্যমে সমন পাঠানোর জন্য মার্কিন আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এসইসি জানিয়েছে, ভারত এর আগে সমন জারির দুটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আদানী গোষ্ঠীর বক্তব্য কী?
এই মামলা প্রসঙ্গে গতবছর আদানি গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে বৈদেশিক দুর্নীতি আইনে কোনও মামলা হয়নি। সংবাদমাধ্যম ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও আদানি সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করেছে।
আদানী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ কী?
উল্লেখ্য, গৌতম আদানির সংস্থা আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের সাথে এক মার্কিন সংস্থা অ্যাজুরে পাওয়ারের (Azure Power India Limited) চুক্তি হয়। যৌথ উদ্যোগে ১২ গিগাওয়াট সৌরশক্তি বিভিন্ন রাজ্যে বিক্রি করা হবে - এমনই লক্ষ্য ছিল এই প্রকল্পের। লাভজনক এই প্রকল্পে ২০ বছরে সংস্থার প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা লাভ হত। এই প্রকল্পের জন্যই আদানি ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় মার্কিন মুলুকে ৩টি মামলা হয়। ৩টি মামলা হল ইউএস বনাম আদানি ও অন্যান্যরা (আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বনাম আদানি ও অন্যান্যরা (আদানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা), এবং এসইসি বনাম ক্যাবানেস (অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা)। এই মামলাগুলি বিচারের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা জজ নিকোলাস জি গারাফিসকে।
২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এক প্রেস বিবৃতিতে (2024-181) এসইসি-র এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সঞ্জয় ওয়াধওয়া (Sanjay Wadhwa – Acting Director of the SEC’s Division of Enforcement) জানান, “অভিযোগ অনুযায়ী, গৌতম এবং সাগর আদানি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আদানি গ্রিন বন্ড কিনতে প্ররোচিত করেছিলেন এমন একটি অফারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে কেবল এই ভুল তথ্যই দেওয়া হয়েছিল যে আদানি গ্রিনের একটি শক্তিশালী ঘুষ-বিরোধী সম্মতি কর্মসূচি রয়েছে, তা-ই নয়, বরং এটাও বলা হয়েছিল যে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা ঘুষ দেয়নি বা দেবে না বা ঘুষ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেবে না। আর সিরিল ক্যাবানেস একটি মার্কিন পাবলিক কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এই অন্তর্নিহিত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে অংশ নিয়েছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের, যার মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্পোরেট কর্মকর্তা এবং পরিচালকরাও অন্তর্ভুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন