“আমরা তাঁকে মঞ্চ দিয়েছিলাম, ওরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে”। রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির এক অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সিপিআইএম থেকে সদ্য বহিষ্কৃত প্রতীক-উর রহমান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, তৃণমূল ওকে এক সপ্তাহে ভুলে যাবে।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ সেলিম বলেন, বামপন্থায় বিকাও একজন, বাকিরা টিকাও। সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত, তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক-উর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যুবদের মঞ্চ দিই। আমরা যাকে মঞ্চ দিয়েছিলাম, তাঁকে প্রথম দিনই রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গতকাল আমতলায় দলীয় অফিসের বাইরে রাস্তাতেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন প্রতীক-উর।
অতীতে একাধিকবার তৃণমূলের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন বহিষ্কৃত সিপিআইএম নেতা প্রতীক-উর রহমান। সিপিআইএম রাজ্য কমিটি থেকে বহিষ্কৃত এই সদস্য প্রসঙ্গে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, তারা প্রথমে মারে। তারপরও যদি শিরদাঁড়া সোজা করে থাকে, তখন লোভ দেখায়। তারপরও শিরদাঁড়া সোজা করে রাখলে, বলে, তুমি তো আমাদেরই লোক। তিনি আরও বলেন, আমি জানি, যারা ওকে কিনেছে, তারা এক সপ্তাহে ভুলে যাবে।
কয়েকদিন আগেই সিপিআইএমের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি লিখেছিলেন প্রতীক-উর। এরপর সিপিআইএম-এর তরফ থেকে তাঁকে দলে রাখার জন্য একাধিক চেষ্টা করা হয়। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শনিবার তৃণমূলে যোগ দেবার পর সিপিআইএম গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারা, ১৩ নম্বর উপধারা অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয় তাঁকে।
রবিবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রতীক-উর বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এই সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, যে ভাবে গোটা দেশে মানুষের কণ্ঠরোধ হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে সবথেকে বড় শক্তি হলো তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি।’ উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে এই অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধেই লড়েছিলেন প্রতীক-উর।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন