

জল্পনা সত্যি করে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক-উর রহমান, চলতি মাসেই যিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন, "নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।'' এখনও তাঁর অ্যাকাউন্টে জ্বলজ্বল করছে সেই পোস্ট। 'নৈতিকতা'র পাঠ পড়িয়েই সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূলে গেলেন তিনি। দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক ব্যানার্জির হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি।
কয়েকদিন আগেই সিপিআইএমের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আব্যাহতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি লিখেছিলেন প্রতীক-উর। এরপর সিপিআইএম-এর তরফ থেকে তাঁকে দলে রাখার জন্য একাধিক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে সমস্ত চেষ্টাকে ব্যর্থ করে আজ তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সিপিআইএম। পার্টি গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারা, ১৩ নম্বর উপধারা অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে।
এ দিন তৃণমূলে যোগদানের পরে প্রতীক-উর বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এই সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, যে ভাবে গোটা দেশে মানুষের কণ্ঠরোধ হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে সবথেকে বড় শক্তি হলো তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি।’ উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে এই অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধেই লড়েছিলেন প্রতীক-উর।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর প্রতীক-উরের প্রশংসাতে পঞ্চমুখ অভিষেকও। তিনি বলেন, "আমি ২ দিন ধরে সংবাদমাধ্যম দেখছি, বলা হচ্ছে, প্রতীক-উর তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন। তিনি বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাচ্ছেন। প্রতীক-উর নিজে এসে আমাকে বলেছেন, দাদা দল টিকিট দিলেও আমি নেব না। আপনার সাথে যে এতদিন ধরে দল করল, তাঁকে আপনি চেনেনই না। আপনি আগেই ঘোষনা করে দিলেন সে বেইমান, সে গদ্দার। কারণ সে আপনার কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি। আপনার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলায়নি। আপনার স্তাবকে পরিণত হয়নি।... আমি এটা সংবাদমাধ্যমে বলতাম না। কিন্তু আমি যদি এটা না বলি, আমার এটা বিবেকে লাগবে।''
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন