

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোট করে লড়তে চলেছে সিপিআইএম এবং হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি? বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং হুমায়ুন কবীরের দীর্ঘ বৈঠক সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। এরপর থেকেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিতর্ক তৈরি হয়েছে সিপিআইএম-এর অন্দরেও। সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
দলের মধ্যে বিতর্ক শুরু হতেই এই নিয়ে মুখ খুলেছেন মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “ও (হুমায়ুন কবীর) কী চায়, কী দল তৈরি করেছে, তার লক্ষ্য কী, জানতে গিয়েছিলেম। মিডিয়া তো নানারকম কথা বলে, বিভিন্নরকম দালাল প্রকৃতির লোক থাকে, অনেক সাংবাদিক থাকেন যারা নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয়ে গিয়ে এর কথা ওকে, ওর কথা তাঁকে বলে, কারও মুখের ঝাল খায় না মহম্মদ সেলিম। আমি নিজে একটু চেখে দেখি, আসলে ও কী চাইছে। তারপর আমি পার্টিতে গিয়ে আলোচনা করব।“
তিনি আরও বলেন, “সবই চেক করে নিতে হয়, বাজিয়ে নিতে হয়। তুমি একটা জামা কিনতে গেলে আট-দশবার টেনেটুনে দেখছ মাপ ঠিক হবে কি না, আর রাজনীতি করছ, সেখানে মাপজোক করবে না? নইলে তো ঘুরে পড়ে যাবে।“
তবে এই মিটিং নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, "প্রথম প্রথম প্রেমে পড়েছেন নাকি যে মন বুঝতে গিয়েছিলেন! আসলে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক এখন দেউলিয়া। রাজনীতির ভিক্ষাপাত্র হাতে এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরছে। আমরা এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল। এখনও একা লড়ার মুরোদ নেই। কখনও কংগ্রেসের জুতো পালিশ করতে হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে আসুন বলতে হচ্ছে। থ্রি-টায়ার শূন্য এই সিপিআইএম। বিধানসভায় শূন্য, লোকসভায় শূন্য, দু মাসের মধ্যে রাজ্যসভাতেও শূন্য হবে।“
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “কার সঙ্গে কে জোট করবে আমি কী করে বলবো? সেলিম, হালিম, ডালিম জোট করলে করবে। আমার এই বিষয়ে কিছু জানা নেই।“
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, "বিজেপি সব দেখছে। আমরা দেখতে চাই হুমায়ুন কবীর আর মহম্মদ সেলিম - সবাই মিলেমিশে কী হচ্ছে। দু'জনেই তো মোঘল সাম্রাজ্যের। এখন কোন মোঘল কার হাত ধরে, সেটাই দেখার।"
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন মহম্মদ সেলিম এবং হুমায়ুন কবীর। আসন সমঝোতা নিয়েই কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। মিটিং-এর পর সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন বলেন, ‘‘মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জোট করে লড়ব কি না, সে বিষয়ে কথা বলেছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ওঁদের উপরেই ছাড়তে চাই। কংগ্রেস নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন