

শুক্রবার দুপুরে এক ফেসবুক বার্তায় সিপিআইএম মালদা জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘বৃন্দাবনী মাঠে যে সমাবেশ করার ছিল প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে তা পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান যে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিআইএম। আদালত নির্দেশ দেয় মালদা কলেজের মাঠে সভা করার অনুমতি পাওয়া যায়। যদিও শনিবার সমাবেশের দিন সেই মাঠও পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই রথবাড়ি মোড়ে রাস্তা আটকেই সভা করে সিপিআইএম। সভার শেষে মালদা শহর জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করে সিপিআইএম।
শনিবার মালদা জেলা সিপিআইএম নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আমরা আগেই বলেছিলাম মাঠ না পাওয়া গেলে রাস্তা আটকেই সভা হবে। আজ প্রশাসনের হাজারো বাধা সত্ত্বেও সমাবেশ আটকানো যায়নি। মানুষ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে মালদা শহর। রথবাড়ি এলাকায় জমায়েত রাস্তা ছাপিয়ে যায়। ফ্লাইওভারের ওপরেও মানুষ দাঁড়িয়ে আজ সভা শুনেছেন। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, দলীয় নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি, শতরূপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
এদিনের সভায় শতরূপ ঘোষ বলেন, হাজার চেষ্টা করেও, তৃণমূলের হাজার দালালি করেও পুলিশ সমাবেশ আটকাতে পারেনি আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন বলে। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকলে কাল বিধানসভায় যাওয়াও আটকাতে পারবে না। তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে এই মালদায় একটাও আসনে জেতেনি তৃণমূল। লড়াই আজ থেকে শুরু হল। প্রথম কথা প্রধান কথা নিজের বুথ জিতবো কিনা। আপনাদের সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, রাস্তা কারোর বাপের নয়। আমরা রাস্তাতেই আছি। লাল ঝান্ডা মানুষের কথা বলবে। তিনি বলেন, মালদা জেলা জুড়ে মা-বোনেরা ঋণের জালে জর্জরিত। মাইক্রোফিনান্সের দাপটের বিরুদ্ধে কথা বলবে সিপিআই(এম)। অথচ সমাবেশের জন্য মাঠ প্রশাসন দিল না। তৃণমূলের দালালি করছে প্রশাসন। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই সামনে ২৬-এর ভোট। এই ভোটে দালালি ছুটিয়ে দিতে হবে। এরাই পঞ্চায়েতের ভোট লুট করিয়েছিল তৃণমূলের ছেলেগুলোকে দিয়ে। এরাই, এই প্রশাসন গোটা পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজ বন্ধ করতে তৃণমূল এবং বিজেপি’র পাশাপাশি দালালি করেছে।
তিনি আরও বলেন বলেন, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা, মালদা মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলার জন্য আক্রমণের শিকার সে কথা বিজেপিকে বলতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তুমুল হেনস্থা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপি। এই অবস্থা কেন হবে? বিজেপি-কে তার জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যটাকে কিচ্ছু জানে না। পদবির বানান কেন বদলায় জানে না, মহিলাদের পদবি কেন বদলায় জানে না। আর তৃণমূল এদেরকেই উৎসাহিত করছে। তৃণমূলের দম থাকলে বিধানসভার ভেতরে কেন কোনও প্রস্তাব পাশ করল না?
মানুষের ভিড়ে উপচে পড়া সমাবেশে বলতে উঠে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আমাদের রাজ্যে এখন অদ্ভূত অবস্থা। ভোট এলে বলে খেলা হবে, আর আমাদের বলে মাঠ দেব না। তাহলে শুনে রাখুন মাঠ না দিলে রাস্তায় খেলা হবে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, আমরা রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি। এর জন্য দায়ী প্রশাসন আর চোদ্দ তলায় বসে থাকা চোর জোচ্চোররা। সব রাজ্য প্রশাসনের দলদাস। থানার আইসি থেকে আইএএস সকলের এক অবস্থা। কয়লা চোর ভাইপো মেলা করবে তার জন্য চার জেলার পুলিশ পাহারা দেবে। আর সিপিআই(এম) জেলা সমাবেশ করবে, তার জন্য হাইকোর্টে যেতে হবে?
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন