

সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় স্কুল পড়ুয়ারা! তাঁদের না জানিয়েই নিয়ে যাওয়া হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ এসেছিল বলে অভিভাবকদের জানানো সম্ভব হয়নি, পাল্টা সাফাই দিলেন প্রধান শিক্ষক।
বুধবার সিঙ্গুরে সভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন সভার সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় একাধিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের। তাদের হাতে ছিল নানা সরকারি প্রকল্পের প্ল্যাকার্ড।
অভিযোগ, অভিভাবকদের না জানিয়ে সিঙ্গুরের নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দিরের পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর এই সভাতে। স্কুল ছুটির সময় অভিভাবকরা পড়ুয়াদের নিতে স্কুলে হাজির হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তাঁরা জানতে পারেন, পড়ুয়াদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে গিয়েছেন শিক্ষকরা। এই বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানতেন না তাঁরা, এমনটাই অভিযোগ অভিভাবকদের।
বিদ্যালয় চত্বরেই অপেক্ষা করতে থাকেন অভিভাবকরা। কিছুক্ষণ পরে পড়ুয়ারা ফিরলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের হাতে একটি করে বিরিয়ানির প্যাকেট ছিল। জানা যায়, বিরিয়ানির টোপ দিয়ে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সভাস্থলে। একথা জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।
প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক সভায় ছাত্রদের নিয়ে যাওয়া কি শিক্ষকদের কাজ? তা-ও আবার অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়া? এক অভিভাবক পূর্বের বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এমন ঘটনা কোনও দিন দেখিনি। বাম শাসনকালে বহু বামপন্থী শিক্ষক এই স্কুলে কাজ করেছেন। পরিচালন সমিতিও বামপন্থীদের হাতেই ছিল। কিন্তু এমন হতে দেখিনি কখনও।“
স্কুলের প্রধানশিক্ষক গদাধর বারুই জানান, 'একদম শেষ মুহূর্তে আমাদের কাছে দপ্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ আসে। ফলে অভিভাবকদের জানানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের এটা করতে হয়েছে। অভিভাবকদের ক্ষোভ হওয়াটা স্বাভাবিক।’ বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অভিভাবকদের বিক্ষোভের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে লেখেন, 'তৃণমূল নিজেদের সভায় লোক ভরাতে পারবে না বলে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে গিয়ে সভা বাড়াতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের ধিক্কার জানাই।’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন