

আর কয়েক মাস পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপি এবং তৃণমূলকে আটকাতে প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে কংগ্রেসকে জোট-বার্তা দিয়েছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কংগ্রেসকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলেন তিনি। এবার নাম না করে সেলিমকে জবাব দিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের ব্যাপারে অহেতুক মাথা না ঘামানোর স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের এক সভা থেকে কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে মহম্মদ সেলিম বলেন, “মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস তাকিয়ে আছে প্রদেশ কংগ্রেসের দিকে, প্রদেশ কংগ্রেস তাকিয়ে আছে দিল্লী কী বলবে সেদিকে। দিল্লী তাকিয়ে আছে কেরলের নেতা কী বলছে। আমরা বলছি এই বাংলার ভবিষ্যৎ কোনও হিল্লি দিল্লী ঠিক করবে না। এই বাংলার মানুষকেই ভবিষ্যৎ ঠিক করতে হবে। কংগ্রেসকে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সময় চলে যাচ্ছে।“
এর একদিন পর মালদহের সভা থেকে ফের কংগ্রেসকে জোট-ইস্যুতে আক্রমণ করেন সেলিম। তিনি বলেন, “যে মই দিয়ে তৃণমূল রাইটার্স বিল্ডিংয়ে উঠেছিল, সেই মইকেই লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। তারপরেও কংগ্রেসের শিক্ষা হয়নি। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা থেকে শুরু করে দিল্লির নেতা, সবাই ভাবছেন এদিকে গেলে লাভ, না ওদিকে গেলে লাভ। দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মাপছেন। এটা কোনও শাক-সবজির বাজার না।… এখানে কোনও দিল্লি-হিল্লির সিদ্ধান্ত চলবে না। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। সাধারণ মানুষকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে।”
সোমবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য। নিজের সমাজমাধ্যমে কারও নাম না নিয়ে তিনি লিখেছেন, “কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নেবে। অন্য কেউ নয়। কংগ্রেস মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা আঞ্চলিক দল নই। জেলা, প্রদেশ, দিল্লি, কেরল নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানো বন্ধ করুন।“
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের জোটবদ্ধ লড়াই রক্ত ঝরানো ইতিহাসে লেখা আছে। দেওয়াল লিখন কিংবা পোস্টারে নয়। আমাদের দল প্রকৃত অর্থেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। থিসিস, অ্যান্টিথিসিস থেকে সিন্থেসিস – এটা আমরা বাস্তবিক অর্থে প্রয়োগ করে দেখাই।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অনেক আগেই 'একলা চলো'র ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারপরও জোট বার্তা দিয়েছিলেন সেলিম। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস মুখপাত্রর এই পোস্ট শুভঙ্করের 'একলা চলো' বার্তাকেই জোরদার করে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ কী সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন