

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর রাজ্যে একক শক্তিকে নির্বাচন লড়তে চলেছে কংগ্রেস। এর আগেই প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই একথা জানানো হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই প্রদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা নিয়ে জল্পনা ছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রবিবার প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থী তালিকা। যে তালিকায় ২৮৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষিত হয়েছে। যদিও এই তালিকায় নাম নেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এবার কংগ্রেসের একক শক্তিতে লড়াকে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একসঙ্গে ২৮৪টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হল। এর আগে শনিবার নয়াদিল্লি-তে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে বেশিরভাগ নাম চূড়ান্ত হয়।
এই তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চর্চিত মুখকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী লড়বেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে। অন্যদিকে ভবানীপুর আসনে কংগ্রেস ভরসা রেখেছে দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের উপর। এই কেন্দ্রটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।
আরও একটি হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম-এ কংগ্রেস প্রার্থী করেছে যুব নেতা জরিয়াতুল হোসেনকে। একইসঙ্গে মৌসম বেনজির নূর, যিনি সম্প্রতি দলবদল করে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তাঁকে মালতীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বেশ কিছু পরিচিত মুখকে টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস। চাকুলিয়া কেন্দ্রে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে আলি ইমরান রামজ় ওরফে ভিক্টরকে, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিতর্ক ছিল। বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত নেতা সোমেন মিত্র-র পুত্র রোহন মিত্রকে।
তালিকায় আরও দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিজ্ঞ ও প্রাক্তন বিধায়কদের পাশাপাশি নতুন মুখকেও সুযোগ দিয়েছে দল। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম—প্রায় সব জেলাতেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাজ্যের সব আসনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে এই তালিকায় প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-এর নাম নেই, যা রাজনৈতিক মহলে কিছুটা জল্পনা তৈরি করেছে।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ফলে এতদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে দলের কর্মী-সমর্থকদের। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে, ফলে আগামী দিনে প্রচারে গতি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন