লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বীরভূমের পাথর খাদান। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যের বিগত সরকারের আমলে একের পর এক দুর্নীতির কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, ‘গুন্ডা, মাফিয়া, তোলাবাজ... একজনও জেলের বাইরে থাকতে পারবে না!’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রকল্পকে সামনে রেখে ছত্রে ছত্রে কারচুপি হয়েছে আর সরকারি সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূল নেতারা।
মঙ্গলবারের বক্তব্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই ৩০ লক্ষ এমন প্রাপকের নাম পাওয়া গেছে যাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। এরা ভুয়ো উপভোক্তা। অথচ এরাই দিনের পর দিন টাকা পেয়েছেন। বার্ষিক হিসেবে যে অঙ্ক প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই টাকা ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল, জঙ্গিপুর, বহরমপুর ব্লকে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা কীভাবে ভুয়ো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই তথ্যও এদিন বিধানসভায় তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাইনরিটি স্কলারশিপ, এলপিজি বেনিফিট, বার্ধক্য ভাতা সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা এভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে ভুয়ো অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
বাংলায় পালা বদলের পর নতুন বিজেপি সরকার প্রথমেই জানিয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে চলা হবে! মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে সেই দুর্নীতির প্রসঙ্গই। একদিকে যেমন বিভিন্ন প্রকল্পে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তিনি তুলে ধরেছেন তেমনই তাঁর বক্তব্যে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও।
মুখ্যমন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে প্রতি বছর ১১০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই পৌঁছে যেত। কারণ, ওই খাদান থেকে আগের সরকারের আমলে বছরে মাত্র ৭ কোটি রাজস্ব আসত। বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর মাত্র অল্প কয়েকদিনেই সেখানে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগামী দিনে এই রাজস্ব আদায় ১০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে বলেও তিনি জানান।
গতকালের জবাবী ভাষণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ এসেছে প্রাক্তন সরকারের পরামর্শদাতা বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাকের নামেও। মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই করা কাগজ বিধানসভায় দেখিয়ে অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ৩২৪ কোটি টাকা একটি বণিকসভাকে দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে আইপ্যাকের এক অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে। রাজ্যের সব ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু এবার কাউকে রেয়াত করা হবেনা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন