

কার্যত বিরোধীশূন্য হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার সংসদের তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ আসনে জয়লাভ করলেও পরিষদীয় দলে ভাঙনের পর বিরোধী দলের তকমা এবং নিয়ন্ত্রণ দুটোই হারাতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। অন্যদিকে সংসদের দুই কক্ষেও তৃণমূলে ভাঙন ধরার কারণে সেখানেও ধাক্কা খাবে বিরোধী পরিসর।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল একাধিক তৃণমূল সাংসদ শিবির বদলের জন্য তৎপর। এঁরা অনেকেই যোগাযোগ রেখে চলছিলেন বিজেপির সঙ্গে। সোমবার সেই গুঞ্জনই সত্যি হল। জানা যাচ্ছে, এদিনই দফায় দফায় বৈঠকের পর তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ শাসক এনডিএ শিবিরে যোগদানে ইচ্ছুক। ফলে একদিকে যেমন সংসদে বিরোধীদের শক্তি কমবে তেমনই ইন্ডিয়া মঞ্চেও গুরুত্ব হারাতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্র অনুসারে, ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন সাংসদ। তাঁরা শাসক এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চাইছেন। জানা যাচ্ছে এঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শতাব্দী রায় এবং কাকলী ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে সোমবার সকালেই তৃণমূল দল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। ফলে লোকসভা এবং রাজ্যসভা – সংসদের দুই কক্ষেই তৃণমূলের ভাঙন শুরু হয়েছে।
এই মুহূর্তে লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের মোট সাংসদ ৪১ জন। রবিবার রাতেই কোনও এক গোপন জায়গায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা বৈঠক করেন। যে বৈঠকে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, কালীপদ সোরেন, জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, অসিত মাল, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকেই ছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। এরপরেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সাংসদরা। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন