

প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভা মঞ্চে ঘুষ কান্ডে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে ঘিরে শোরগোল। কীভাবে পুলিশের খাতায় ফেরার ওই বিজেপি নেতা মঞ্চে উঠলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। আর্থিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত রাজ্য বিজেপির সম্পাদক সিন্টু সেনাপতিকে গত ১৪ মার্চ বিজেপির ব্রিগেড সভার দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যাওয়ার পরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। যদিও বিতর্ক সত্ত্বেও বিজেপির প্রথম যে প্রার্থী তালিকা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে তাতে সিন্টু সেনাপতিকে পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে ৯১ লক্ষ টাকার বেশি প্রতারণার অভিযোগ আছে। অভিযোগ, পুলিশি তদন্ত এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। যদিও গত ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করেছেন সিন্টু সেনাপতি। যে ভিডিও বার্তায় তিনি নারায়ণকিঙ্কর মিশ্রের সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ এনেছেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপি পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এক ফেসবুক লাইভ করে নারায়ণকিঙ্কর মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ওই ফেসবুক লাইভের শীর্ষক ছিল "২০২১ টিএমসি-র সহয়োগিতায় নির্দল প্রার্থী নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্র সম্বন্ধে কিছু বক্তব্য বিজেপি নেতৃত্ব দ্বারা...... ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বদের"। ভিডিওতে সিন্টু সেনাপতি সম্পর্কে প্রশংসা করে নারায়ণকিঙ্কর মিশ্রের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়।
সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁরই দলের প্রবীণ বিজেপি নেতা নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র। তাঁর অভিযোগ দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রবীণ বিজেপি নেতার অভিযোগ, তাঁকে প্রার্থী করা এবং দলে উচ্চ পদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছে সিন্টু সেনাপতি। নিজের টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধোর করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।
নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। ২০১১ সালে সিন্টু সেনাপতির সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তাঁর অভিযোগ, সিন্টু সেনাপতি তাঁকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। তিনি বিজেপি নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনও ফল হয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ। তিনি জানিয়েছেন, বাধ্য হয়েই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সিন্টু সেনাপতির কথা উল্লেখ করে গতকাল ১৫ মার্চ নিজের ফেসবুক পেজে এক পোষ্ট করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। যে পোষ্টে তিনি বলেন, "ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে এ কে? এ কি বিজেপির মেদিনীপুরের সিন্টু সেনাপতি, যার বিরুদ্ধে চাকরির নামে টাকা নেওয়া ও অন্য অভিযোগ উঠেছে বিজেপির ভেতর থেকেই? তদন্ত চলছে, জামিন মেলেনি, দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া? বিজেপির লোকেরাই পুলিশের কাছে, দলের কাছে অভিযোগ করেছে। এইসব মাল নিয়ে ফ্লপ ব্রিগেডে মোদিজির বড় বড় কথা? বিজেপি বলুক, ওই কি সিন্টু সেনাপতি? ও যদি হয়, তাহলে ওখানে গেল কী করে? কোথায় গা ঢাকা দিয়ে ছিল? পুলিশ অবিলম্বে দেখুক বিষয়টা। বিজেপির ভেতরেই একে নিয়ে শোরগোল চলছে।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন