বারুইপুরের সিপিআইএম নেতা লাহেক আলীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ আরও বাড়ালো কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার আদালতে লাহেক আলীর বিরুদ্ধে উস্কানিতে জড়িত থাকার ভিডিও ফুটেজ পেশ করতে পারেনি রাজ্য। এরপরেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিপিআইএম নেতার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকবেন। ৮ অক্টোবর ফের এই মামলার শুনানি হবে। গত ২ সেপ্টেম্বর লাহেক আলীকে ৮ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল।
এর আগেই আদালত নির্দেশ দিয়েছিল লাহেক আলীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে উস্কানি দেবার ভিডিও ফুটেজ আদালতে জমা দিতে। এদিন শুনানির সময় রাজ্য সেই ফুটেজ জমা দিতে ব্যর্থ হয়। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ সংক্রান্ত পেনড্রাইভ এখনও মালখানা থেকে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি ফের এই ফুটেজ জমা দেবার জন্য আদালতের কাছে সময় চান।
অন্যদিকে লাহেক আলীর পক্ষের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর শুনানির সময় রাজ্যের কাছে এই পেনড্রাইভ চেয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেইসময় রাজ্য পেনড্রাইভ দিতে পারেনি। সেই সময় লাহেক আলীর মা ভেন্টিলেশনে থাকায় তাঁকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। আজ শুনানির সময় একইভাবে রাজ্য সেই পেনড্রাইভ দিতে পারেনি। লাহেক আলীর মন্তব্যের জন্য গণপিটুনিতে মৃত্যু, থানায় আক্রমণ, গাড়ি ভাঙচুরের যে অভিযোগ আদালত সেই মন্তব্যের প্রমাণ দেখতে চান।
গত জুলাই মাসে বারুইপুরে এক নাবালিকার গণধর্ষণ, হত্যা এবং তার পরবর্তী সময়ে গণপিটুনিতে হত্যার পর সিপিআইএম নেতা লাহেক আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় উস্কানি দেবার, প্ররোচনা দেবার। আদালতে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি খন্ডন করে লাহেক আলির আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের নামে প্রহসন চলছে। ভিডিওতে দেখা গেছে লাহেক আলি ক্ষিপ্ত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করছে। অথচ তাঁর নামেই পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত চালু? এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সেইসময় লাহেক আলী জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ইচ্ছে করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন