

জামিন পেয়েই বিজেপির প্রার্থী হলেন রাকেশ সিং। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে এদিনই রাকেশ সিং-এর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রভাবশালী মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বামফ্রন্টের সিপিআইএম প্রার্থী ফৈয়াজ আহমেদ খান।
গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পান রাকেশ সিং। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রভাবশালী এই নেতাকে প্রার্থী করলো বিজেপি। গত পাঁচ মাস জেলে বন্দী ছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে বিজেপির এই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেস অফিস বিধান ভবনে ভাঙচুর করার অভিযোগ ছিল। এই ঘটনার পরেই তিনি গা ঢাকা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এন্টালি থানায় মামলা দায়ের হয়। বিহারে রাহুল গান্ধীর মিছিলে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদে বিজেপি নেতা রাকেশ কংগ্রেস অফিসে ওই হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
গত সোমবার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হয়ে ছাড়া পাবার পর তিনি জানান “১৬৩ দিনের সংগ্রামের পর আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৬টি মিথ্যা মামলায় হাই কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।
বুধবার রাকেশ সিং-এর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “কলকাতা পোর্ট বিধানসভা থেকে আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সমর্পণের সঙ্গে কাজ করব।”
গত ৬ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পোষ্টে তিনি জানিয়েছিলেন, “১৬৩ দিনের লড়াইয়ের পর কলকাতা উচ্চ ন্যায়ালয় আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৬টি মিথ্যা মামলায় আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেল থেকে বের হচ্ছি এবং আগের থেকেও আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছি।
‘এই কঠিন সময়ে বিজেপি নেতৃত্ব পাশে ছিলেন বলে জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “আমি নেতা নই… আমি আপনাদের সেবক। সাহস ও বিশ্বাস নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে কেউ নেতা হোক বা গুন্ডা হোক, প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে, প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে এবং সব কিছুর হিসাব সুদসহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা রাকেশ সিং ২০১৯ সালের মার্চ মাসে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন