

রাত ১১টা বেজে গেছে। এখনও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে অবস্থান চলছে রাজ্য বামফ্রন্টের। রাত ১০টা নাগাদ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আমাদের অবস্থান চলবে। আমরা সিইও দপ্তরের সামনে থেকে নড়বো না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফের এখানেই সমাবেশ হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবির মীমাংসা না হবে ততক্ষণ এই অবস্থান চলবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৬০ লক্ষ মানুষের জন্য এখানে লড়াই হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে এই লড়াই। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হল কেন? মুখ্যমন্ত্রী এখন নাটক করছেন। সুপ্রিম কোর্টে উনি যাননি। মোস্তারি বানু গেছে। সিপিআইএম গেছে। আমাদের আসল আর নকলের তফাৎ বুঝতে হবে। উনি যেরকম ওয়াকফ, সিএএ নিয়ে যা করেছেন এখানেও তাই করেছেন। উনি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারতেন। তাও ডাকেননি। কেরালা, তামিলনাড়ুতে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। বিধানসভায় প্রস্তাব আনতে পারতেন, আনেননি।
মহম্মদ সেলিম বলেন, আমরা চাইছি ভোটার লিস্টে ভোটারদের নাম ফেরত আসুক। প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমরা আড়াই মাস আগেও একই কথা বলেছিলাম। আজও সেই কথাই বলছি। নাটক মমতা ব্যানার্জি করছেন। শুধু ভাইপোকে বাঁচাতে এসব করছেন।
তৃণমূল ও বিজেপির কড়া সমালোচনা করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, এই বিক্ষোভ কতদিন কতক্ষণ চলবে তা আমরা জানিনা। এটা আরএসএস আর ওনার গেম প্ল্যান। কেন্দ্রীয় সরকার, ইসিআই মিলে ৬০ লক্ষ মানুষকে বিচারাধীন করে দিয়েছে।
সিপিআই(এম) সহ রাজ্য বামফ্রন্ট ও সহযোগী দলগুলির ডাকে বুধবার সিইও দপ্তর অভিযান হয়। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে, প্রকৃত ভোটার লিস্ট যাতে তৈরির দাবি নিয়ে এদিন মিছিল ও সমাবেশ হয়। দাবি ছিল বামেদের ডেপুটেশন গ্রহণ করতে হবে সিইও-কে। কিন্তু সিইও না আসায় সারা রাত ব্যাপী অবস্থানের ডাক দেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।
এদিন সেলিম বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধান, আইন না মেনে আরএসএস-বিজেপির পরিকল্পনা মাফিক বিধানসভা ভোটের আগে এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে ৬০ লক্ষ মানুষ বিচারাধীন। এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের নিচুতলার কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সব কর্মীরা ফেল করেছে। তারা তথ্য পেয়েও আপলোড করেনি। রাজ্য সরকারের অফিসাররা যেহেতু এসআইআর কাজে ব্যস্ত তাই অনেকেই যে ডকুমেন্ট চেয়েছিলো সাধারণ মানুষ তা নিয়ে আসতে পারেনি। গরিব মানুষ সবার হাতের কাছে তো সব তৈরী করা থাকেনা, আর যারা তথ্য দিলো তাদের তথ্য আপলোড করা হলোনা।
অবস্থান চলাকালীন দফায় দফায় পুলিশ বাম কর্মী সমর্থকদের সেখান থেকে উঠিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চালালেও অবস্থান চালিয়ে যেতে অনড় অবস্থান নেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। এই অবস্থানের পাশাপাশি, আগামী ২ দিন সমস্ত জেলা, ব্লকে ধর্ণা অবস্থান চলবে বলে জানিয়েছে বামফ্রন্ট। পাশাপাশি আগামীকাল কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে বিকেল ৪ টের সময় ফের সমাবেশের ডাক দিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। এসআইআরে যারা হয়রানির স্বীকার হয়েছেন, তাঁদের সকলকে এই অবস্থানে শামিল হওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন