উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বৃহস্পতিবার এক কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজ্যপাল প্যাটেল বলেন, ‘আইএএস অথবা শিক্ষক পরে হবেন, আগে ভালো মা হয়ে উঠুন। কোনোভাবেই যেন আপনার পেশাগত সাফল্য পারিবারিক দায়িত্বের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।’ রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পরেই তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বুধবার ৮ জুলাই কানপুরে ছত্রপতি শাহজী মহারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন আনন্দীবেন প্যাটেল। সেখানেই রাজ্যপাল বলেন, আপনি কোনও আইএএস অফিসার হন বা শিক্ষিকা, আগে একজন দক্ষ মা হন। সকলেরই বাড়িতে খাবার রান্না করা, পরিবেশন করা জানা উচিত। তাঁর কথায়, পেশাদারিত্বের চাপে কোনোভাবেই যেন পরিবার উপেক্ষিত না থাকে।
ওই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার পর সন্তান কী করছে সেই বিষয়ে অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। এই বিষয়ে সামান্য কোনও ত্রুটিও সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে কানপুরের সিএসজেএমইউ-এর সমাবর্তনে ৮২ শতাংশ পদক জিতে নিয়েছেন মেয়েরা। মোট ৫১টি পদকের মধ্যে তাঁরা পেয়েছেন ৪২ টি পদক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১ লক্ষ ৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে চ্যান্সেলরের স্বর্ণপদক লাভ করেন বিএসসি এগ্রিকালচারের স্নাতক প্রিয়া যাদব।
আনন্দীবেনের এই বক্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বহু নেট ব্যবহারকারী। তাঁদের মতে, নিজের বক্তব্যে মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কেউ কেউ বলেছেন, নারী মানেই রান্নাঘর, ঘরকন্না – সেই প্রাচীন ধারণা থেকে বেরোতে পারেননি রাজ্যপাল। যদিও কেউ কেউ তাঁর মন্তব্য সমর্থন করে জানিয়েছেন তিনি সামাজিক মূল্যবোধের পাঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে কোনও ভুল নেই।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই নারীদের বিষয়ে একাধিক জায়গায় বক্তব্য রেখেছেন রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল। প্রতিটি জায়গাতেই তিনি তাঁর বক্তব্যে পারিবারিক মূল্যবোধ, নারীদের আত্মনির্ভরতার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। দিন কয়েক আগেই এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, যদি কাউকে পছন্দ হয় তাহলে আগে আত্মনির্ভরশীল হও, তারপর বিয়ে করো। পাশাপাশি শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পাশাপাশি চরিত্র গঠনেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত পোষণ করেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন