শুধুমাত্র মন্দিরে জমা পড়া দান এবং অলঙ্কার আত্মসাতই নয়। রাম মন্দিরের দানের টাকা চুরি করতে রীতিমত নকল রসিদ ছাপানো হয়েছিল। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাষ্টের নামে ছাপানো ভুয়ো সেই বিলও দেওয়া হয়েছে বহু ভক্তকে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে সিট-এর তদন্তে। পুলিশ সূত্র অনুসারে, তল্লাশি অভিযানে সেই ভুয়ো বিল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত টিন্নু যাদব, লবকুশ, করুণেশ, অনুকল্পরা এই নকল বিল ব্যবহার করতেন। রাম মন্দিরে দানের ইচ্ছা নিয়ে কোনও ভক্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের দানের বিনিময়ে এই বিল দেওয়া হত। লোগো সহ এই বিল দেখতে হুবহু শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাষ্টের বিলের মতই। যদিও পরবর্তী সময়ে অনলাইন দান চালু হওয়ার পর এই অভিযুক্তদের এই চেষ্টায় ভাটা পড়ে।
এখনও পর্যন্ত সিট-এর করা তদন্তের সূত্র অনুসারে, শেষ ৪০ দিনে ৭০ বার চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রায় প্রথম অবস্থা থেকেই মন্দিরে দানের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। সূত্র অনুসারে, শুরুর থেকে এখনও পর্যন্ত মন্দিরে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার অনুদান, বহু টাকার সোনা রূপার অলঙ্কার ইত্যাদি জমা পড়লেও তার বহু টাকা এবং বহু অলঙ্কারেরই নাকি কোনও হদিশ নেই।
সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি সহ বিরোধীদের বক্তব্য অনুসারে, এই চুরির সঙ্গে রাঘব বোয়ালরা জড়িত আছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্তের গতি প্রকৃতি অনুসারে আটক হওয়া কর্মীদের দিকেই মূল অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় ট্রাষ্টের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। বুধবার ৮ জুলাই চিত্রকূটে তিনি জানিয়েছেন ট্রাষ্টের ১৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ৮ জন দানের টাকা ও অলঙ্কার চুরির সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যেই সিট অবিনাশ শুক্লাকে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কাজেই এই ঘটনায় পুরো ট্রাষ্টকে কখনই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি বদনাম করার উদ্দেশ্যে এই বিষয় নিয়ে জলঘোলা করছে।
যদিও অযোধ্যার আইনজীবীরা রাম মন্দির ট্রাষ্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর দাবিতে অনড় রয়েছেন। বুধবার অযোধ্যার আইনজীবীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ যদি চম্পৎ রাই, অনিল মিশ্র, গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে রাজি না সেক্ষেত্রে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন।
অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেভাবে সিট এবং পুলিশি তদন্ত চলছে তাতে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশের এই তদন্ত আদালতে মান্যতা পাবে না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন