

রাম মন্দিরের অনুদান ও অলঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে গত শনিবার ২৭ জুন তিনি ইস্তফা দিয়েছেন রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রে ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে। যদিও তাতেও বিন্দুমাত্র অস্বস্তি কাটেনি প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের।
বৃহস্পতিবার অযোধ্যার আইনজীবীরা দল বেঁধে স্থানীয় থানায় গিয়ে চম্পৎ রাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন। একইসঙ্গে অভিযোগ দায়ের হল চম্পৎ রাই ঘনিষ্ঠ অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন এদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
ইতিমধ্যেই নিজেকে রাম মন্দিরের ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন বলে দাবি করেছেন চম্পৎ রাই। জানা যাচ্ছে পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, তিনিই মন্দিরে নজরদারি চালানোর জন্য গোপন ক্যামেরা বসিয়েছিলেন এবং সেই ক্যামেরার ফুটেজ থেকেই এই চুরি ধরা পড়েছে।
চম্পৎ রাইয়ের আরও অভিযোগ, তিনি যাঁদের বিশ্বাস করেছিলেন তারাই তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি কোনোভাবেই ওই চুরির সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান ও অলঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় চম্পৎ রাইয়ের নাম পুলিশ এফআইআর-এ রাখেনি। তাঁকেই আপাতত মূল সাক্ষী হিসেবে ধরে তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ। সূত্র অনুসারে, গোপন ক্যামেরা থেকে যে ফুটেজ পাওয়া গেছে তাতে অনুদানের টাকা ও অলঙ্কার সরানোর স্পষ্ট প্রমাণ আছে। জানা যাচ্ছে, অনুদানের টাকা এবং অলঙ্কার মন্দিরের হিসেবে তোলার আগেই এই চুরি সেরে ফেলা হত।
ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অবিনাশ শুক্লা নামক এক কর্মচারী কীভাবে এই চুরি করা হত তা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন অনুদানের টাকা এবং অলঙ্কার গোণার ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন অনিল মিশ্রা।
দ্য কুইন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মন্দিরের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত কর্মী সরবরাহকারী বারাণসী-ভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও পুলিশ তদন্ত করছে।
প্রসঙ্গত গত ২৭ জুন পদ থেকে ইস্তফা দিলেও এখনও পর্যন্ত চম্পৎ রাইয়ের সেই ইস্তফা গৃহীত হয়নি। ইস্তফার প্রাপ্তি স্বীকার করে ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পরবর্তী বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও সূত্র অনুসারে, ট্রাষ্টের মধ্যে অনেকেই চম্পৎ রাইকে আর পদে রাখতে চাইছেন না। আগামী ৬ জুলাই ট্রাষ্টের পরবর্তী বৈঠকের আগে বিষয়টি স্পষ্ট হবেনা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন