অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানের অর্থ এবং অলঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় কোনও আইনজীবী অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল করবেন না। একই সঙ্গে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাষ্টের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই এবং ট্রাষ্টের পদত্যাগী সদস্য অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওকে তাঁরা অযোধ্যা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। সোমবার অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন বার অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি বৈঠকের পর সভাপতি কালিকাপ্রসাদ মিশ্র জানিয়েছেন, আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াবেন না। তিনি আরও বলেন, যদি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনও আইনজীবী অভিযুক্তদের প্রতিনিধিত্ব করেন সেক্ষেত্রে তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাম মন্দিরের তহবিল এবং অলঙ্কার চুরির ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে এই বিষয়ে পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এ নাম না থাকা চম্পৎ রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাও-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবিতে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হবে। অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান এবং অলঙ্কার আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসার পর গত শনিবার চম্পৎ রাই এবং ট্রাষ্টের প্রভাবশালী সদস্য অনিল মিশ্র নৈতিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে ইস্তফাপত্রর প্রাপ্তি স্বীকার করে জানানো হয়েছে, ট্রাষ্টের পরবর্তী বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিন আইনজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চম্পৎ রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাও আগামী তিনদিনের মধ্যে অযোধ্যা শহর ছেড়ে চলে না গেলে অযোধ্যা শহরের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাম মন্দিরের তহবিল এবং অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে তাঁরা লজ্জিত এবং গভীরভাবে মর্মাহত। এই ঘটনা অযোধ্যার বদনাম করেছে।
অযোধ্যা কান্ডে ইতিমধ্যেই যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের আজ আদালতে পেশ করা হয়। অভিযুক্তদের সকলকেই ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবারই অযোধ্যা পুলিশ শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাষ্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এই বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এটা কোনও জিজ্ঞাসাবাদ নয়। প্রয়োজন মনে করলে পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাষ্টের অন্যান্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বা তাদের বয়ান রেকর্ড করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন