SIR: ‘অযৌক্তিক, স্বেচ্ছাচারী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ - এসআইআর নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন এস ওয়াই কুরেশী

People's Reporter: এস ওয়াই কুরেশী বলেন, কৃত্রিম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে যে ব্যাপক হারে ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে তাকে তিনি প্রতারণা বলেন।
৫ সেপ্টেম্বর ওড়িশায় দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী
৫ সেপ্টেম্বর ওড়িশায় দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশীছবি এক্স হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত
Published on

ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ‘অযৌক্তিক, অবাস্তব, স্বেচ্ছাচারী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ‘অসাংবিধানিক’। দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদের ঘটনা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী। শনিবার ভুবনেশ্বরে ওড়িশা লিটারারি ফেস্টিভালে সাংবাদিকদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুরেশী।

এস ওয়াই কুরেশী বলেন, একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে যে ব্যাপক হারে ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে তাকে তিনি প্রতারণার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এটা একটা প্রতারণা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কুরেশী জানান, বৈধ ভোটারদের নাম যে কোনও কারণেই মুছে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করে বলেন, শীর্ষ আদালত অত্যন্ত নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করে এই নৃশংসতা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। যার ফলে সারা দেশে ১৩ থেকে ১৪ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

কুরেশি দাবী করেন, মোট বাদ পড়া ভোটারদের ৯০ শতাংশই নিশ্চিতভাবে বৈধ ভোটার। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনকভাবে শুধু নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কোনও নাম যুক্ত হচ্ছে না। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবাস্তব, স্বেচ্ছাচারী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেন, সবাই কি অন্য জায়গায় চলে গেছেন? যদি কোনও ভোটার অন্য কোথাও চলে গিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তাঁর নাম সেই জায়গায় যুক্ত হবার কথা।

শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুরেশী বলেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের ভোটার হওয়ার মৌলিক অধিকার আছে। যদি কোনও কারণ বা অজুহাতে তালিকা থেকে একজন যোগ্য নাগরিককেও বাদ দেওয়া তবে তা বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। এর জন্য কাউকে না কাউকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কেউ শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক কারণে বা অন্য কোনও কারণে কারোর বৈধ ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারেনা। এই বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। তিনি দাবী করেন, এই বিষয়ে ফৌজদারি দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০০২-কে ভিত্তিবর্ষ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় কি কোনও ভুল ছিলোনা? এই ভোটার তালিকাতে আমার বাবার নামই ভুল বানানে লেখা ছিল। তাই এটাকেই সঠিক বলে ধরে না নিয়ে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে গত জুলাই মাসেও ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision - SIR) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস. ওয়াই. কুরেশি (S Y Quraishi)। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের নামে এমন এক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে যার মূল লক্ষ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা নয়, বরং যত বেশি সম্ভব ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। এক পুস্তক প্রকাশ অনুষ্ঠানের আগে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানিয়েছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বর ওড়িশায় দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী
SIR III: ১৭ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় ৬ কোটি ১৫ লক্ষ নাম বাদ
৫ সেপ্টেম্বর ওড়িশায় দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী
SIR-এ নাম বাদ মানে নাগরিকত্ব চলে যাওয়া বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে ছাঁটাই নয় - সুপ্রিম কোর্ট

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in