দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার ছিলেন ডি কে শিবকুমার। যদিও তাঁর বদলে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় সিদ্দারামাইয়াকে। সূত্র অনুসারে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টেয় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন সিদ্দারামাইয়া।
কর্ণাটক রাজ্য প্রশাসনের সূত্র অনুসারে, আজ দুপুর আড়াইটের সময় লোকভবনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। এরপর বিকেল ৩ টেয় তিনি তাঁর নিজের বাড়ির অফিস কৃষ্ণাতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। এদিন সকালেই তিনি তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রাতঃরাশকালীন বৈঠকে মিলিত হন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডি কে শিবকুমার।
বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের মন্ত্রী এইচ কে পাটিল সংবাদমাধ্যমে জানান, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, কংগ্রেস হাই কম্যান্ডের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে এবং হাই কম্যান্ড তাঁকে ইস্তফা দিতে বলেছে। যাতে তিনি সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডি কে শিবকুমারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে সানন্দে সম্মতি জানিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া। এখানে কোনও দ্বন্দ্ব, সংঘাত কিছু নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সর্বসম্মতভাবে।
৭৮ বছর বয়সী সিদ্দারামাইয়া একাধিকবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৩ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলানোর আগে তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাড়াও কর্ণাটকে এস নিজলিঙ্গাপ্পা, বীরেন্দ্র পাতিল, ডি দেবরাজ আরস, রামকৃষ্ণ হেগড়ে, এইচ ডি কুমারস্বামী এবং বি এস ইয়েদুরিয়াপ্পাও একের অধিকবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১২ বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯ বার জয়লাভ করেছেন সিদ্দারামাইয়া। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে চামুন্ডেশ্বরী কেন্দ্র থেকে চরণ সিং-এর লোকদলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি জয়ী হন নির্দল প্রার্থী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯৯ সালে জনতা দলের বিভাজনের সময় তিনি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া জনতা দল (সেকুলার) তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে জেডি(এস)-এর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয় এবং ২০০৬ সালে তিনি জেডি(এস) থেকে বহিষ্কৃত হন। এর পরেই তিনি বেঙ্গালুরুর এক জনসভায় সোনিয়া গান্ধীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন