

আশঙ্কা সত্যি করেই সম্ভবত আরও একবার ভাঙতে চলেছে শিবসেনা (ইউবিটি)। এখনও পর্যন্ত যা গতিপ্রকৃতি তাতে আগামী দু’একদিনের মধ্যেই এই ভাঙনে সিলমোহর পড়ে যাবে। গত কয়েকদিন থেকেই জল্পনা ছিল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাকে ভাঙার চেষ্টা করছেন শিবসেনা একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠী। মঙ্গলবার রাতে শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর মুখপাত্র সঞ্জয় রাউথের এক এক্স বার্তায় সেই আশঙ্কাই আরও তীব্র হয়েছে। যে এক্স বার্তা চরম হতাশা থেকেই করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার ১৬ জুন রাত ১১ টা ১৭ মিনিটে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সঞ্জয় রাউথ লিখেছেন, ‘আপনা স্বপ্না, মানি মানি।’ এরপরেই তিনি লিখেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে আজ রাতে মহারাষ্ট্রের সাংসদদের শিবির বদল করার জন্য ১৫ কোটি টাকা করে দেবার কথা বলা হয়েছে।
সঞ্জয় রাউথের এক্স বার্তার উত্তরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক ট্যুইট করেন রাত ১২ টা ১৩ মিনিটে। যেখানে তিনি দাবি করেন, “মাত্র ১৫ কোটি? এত সস্তায় কেন যাচ্ছেন? বিশ্বাস করুন, আমাদের এখানে ৪ কোটি টাকা প্রথমে এবং পরে আগামী ৩৬ মাস প্রতি মাসে ১ কোটি টাকা…হানি এবং মানি।”
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হবার পর বিধানসভার বিধায়ক দল এবং সংসদীয় দল ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই শিবির বদলেছেন ২০ জন সাংসদ। যোগ দিয়েছেন অনামী এনসিপিআই নামক দলে। তৃণমূল সাংসদ এই শিবিরে নাম লেখাননি এবং এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থা রেখেছেন। সুতরাং তাঁর এক্স হ্যান্ডেল বার্তার ইঙ্গিত খুবই স্পষ্ট। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, টাকার বিনিময়েই ভাঙা হয়েছে তৃণমূল।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনার হাতে আছে ৯ সাংসদ। যাঁদের মধ্যে ৮ জন সাংসদ একনাথ শিন্ধে শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বলেই খবর। সেখানেও টাকার বিনিময়েই দল বদল করানো হচ্ছে বলে ইঙ্গিত করেছেন সঞ্জয় রাউথ। গত ১৪ জুন উদ্ধব ঠাকরে সাংসদদের বৈঠক ডাকলেও তাতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪ সাংসদ। বাকি সাংসদরা কেউ ফোনে, কেউ বা ভিডিও কলে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের শেষে সঞ্জয় রাউথ জানিয়েছেন, এখানে কোনও ‘অপারেশান টাইগার’ হবেনা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার যা গতি প্রকৃতি তাতে ভাঙতে চলেছে শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠী। আজ অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শিবির বদলাতে উদ্যোগী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন একনাথ শিন্ধের পুত্র শ্রীকান্ত শিন্ধে। যে বৈঠকে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা একনাথ শিন্ধেরও।
যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধব শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দলে ভাঙনের কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংসদীয় দলের বৈঠকও ডেকেছে উদ্ধব গোষ্ঠীর শিবসেনা। যদিও সেই বৈঠকে কতজন উপস্থিত থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত রবিবারের মত আগামীকালের বৈঠকও উদ্ধব গোষ্ঠীর সাংসদরা এড়িয়ে যান কিনা সেটাই এখন দেখার।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন