

তৃণমূলের পর এবার কি ভাঙতে চলেছে শিবসেনা (ইউবিটি)-র সংসদীয় দল। এই মুহূর্তে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৯ জন সাংসদ আছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এঁদের মধ্যে ৮ জন শিবসেনা শিন্ধে গোষ্ঠীর একনাথ শিন্ধের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন এবং গত ৭ জুন এঁদের মধ্যে ৭ জন দিল্লিতে এক গোপন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
দলে নিজের শক্তি বুঝে নিতে রবিবারই দলীয় সাংসদদের এক বৈঠকে ডেকেছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। এদিন দুপুরে তাঁর বাসভবন ‘মাতোশ্রী’-তে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর শিবসেনা মুখপাত্র যদিও দাবি করেছেন সব সাংসদই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু আজকের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কার্যত চারজন সাংসদ। বাকি পাঁচ সাংসদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন কারণে তাঁরা সশরীরে এসে বৈঠকে পৌঁছতে পারেননি। যে ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এদিনের বৈঠকের পর সঞ্জয় রাউথ জানিয়েছেন, আমরা নিজেরাই বাঘ। এখানে কীভাবে অপারেশান টাইগার হবে? আমরা অপারেশান উলফ শুরু করবো। আজকের বৈঠকে সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাই কেউ গুজবে কান দেবেন না। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠক দলের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
এদিনের বৈঠকে শিবসেনা (ইউবিটি)-র যে চার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন অরবিন্দ সাওয়ন্ত, সঞ্জয় দিনা পাটিল, অনিল দেশাই এবং রাজভাউ ভাজে। এঁরা যথাক্রমে দক্ষিণ মুম্বাই, উত্তর পূর্ব মুম্বাই, দক্ষিণ মধ্য মুম্বাই এবং নাসিকের সাংসদ। অন্যদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন ওমরাজে নিম্বালকার, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে, নাগেশ আস্টিকার, সঞ্জয় দেশমুখ এবং সঞ্জয় যাদব। এঁদের মধ্যে প্রথম দু’জনের ছেলে ও স্ত্রী অসুস্থ। একজনের ছেলের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ব্যস্ত, একজনের মেয়ের বিয়ের কারণে তাঁরা সভায় আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন অনুসারে, গত এপ্রিল মাস থেকেই শিবসেনা (ইউবিটি) গোষ্ঠীর সাংসদ ভাঙাতে তৎপর হয়েছে শিন্ধে গোষ্ঠী। এপ্রিল মাসেও একনাথ শিন্ধের সঙ্গে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৮ সাংসদের এক বৈঠকের খবর পাওয়া গেছিল। যদিও উদ্ধব ঠাকরে ঘনিষ্ঠ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ন্ত সেই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছিলেন।
যদিও অনুমান করা হচ্ছে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগেই এই ভাঙন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। যাতে সংসদে এনডিএ-র শক্তি আরও বাড়ানো যায়। শিবসেনা (ইউবিটি)-র পাশাপাশি নাম আছে এনসিপি (এসপি)-র সাংসদদেরও। তাদের ক্ষেত্রেও সুপ্রিয়া সুলেকে বাদ দিয়ে বাকি সাংসদদের এনডিএ শিবিরে আনার চেষ্টা চলছে বলেই খবর।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন