স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে আচমকাই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাষ্টের পৃষ্টপোষক (Patron) পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আরএসএস নেতা সুরেশ ভাইয়াজী জোশী। রাম মন্দিরে দান এবং অলঙ্কার চুরির ঘটনা নিয়ে দেশজোড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পর আচমকাই তাঁর এই ইস্তফায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়েছে।
রাম মন্দিরের তহবিল এবং অলঙ্কার চুরির ঘটনা সামনে আসার পর প্রবল বিতর্কের জেরে গত ২৬ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই। তাঁর সঙ্গেই ইস্তফা দেন ট্রাষ্টের অন্য সদস্য অনিল মিশ্র। বিজনেস টুডে-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল এই দুজনের বিরুদ্ধেই মন্দিরের দানের টাকা ও অলঙ্কার চুরির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এই সময়েই ইস্তফা দিয়েছিলেন ট্রাষ্টের আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাও। এবার পৃষ্ঠপোষক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আরএসএস-এর সুরেশ ভাইয়াজী জোশী।
সূত্র অনুসারে, বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে ট্রাষ্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরএসএস নেতা ভাইয়াজী। যার মূল দায়িত্ব ছিল ট্রাষ্টের সঙ্গে আরএসএস-এর সমন্বয় রক্ষা করা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আরএসএস নেতৃত্ব, বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার কাজও করতেন।
সুরেশ ভাইয়াজী জোশীর ইস্তফা প্রসঙ্গে আজ তক-এর এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাষ্ট ঢেলে সাজানোর অঙ্গ হিসেবেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। অন্য এক সূত্র অনুসারে ভাইয়াজী জোশীর সঙ্গে চম্পৎ রাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়াতেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।
গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দির ট্রাষ্টের অনুদানের বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিল রাম মন্দিরে অনুদান বাবদ প্রাপ্ত বহু টাকার কোনও হিসেব নেই এবং এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়ে সরকারের নীরবতা সন্দেহজনক।”
প্রাথমিক ভাবে অখিলেশ যাদবের এই অভিযোগের উত্তরে ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ হিসেব পরীক্ষা চলছে এবং এখনও পর্যন্ত এই ধরণের অভিযোগের পক্ষে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অখিলেশ যাদবের অভিযোগের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক।
যদিও অখিলেশ যাদবের অভিযোগের পরেই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন নড়েচড়ে বসে ট্রাষ্ট এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। জানা যায় অযোধ্যার রাম মন্দিরে জমা হওয়া অনুদান, গয়না সব মিলিয়ে কমপক্ষে প্রায় ৭ কোটি টাকা অন্যভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাষ্টেরই কিছু কর্মী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ট্রাষ্টের সঙ্গে যুক্ত ৮ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন