

অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে গতি আনতে উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এ একজন ফরেনসিক অডিটর অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে SIT-কে।
সোমবার শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত, ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের ফরেনসিক অডিট এবং তদন্তের উপর আদালতের নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।
উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, রাজ্য সরকার নতুন করে SIT গঠন করেছে। এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) এস. কিরণ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ডিআইজি, আইজি এবং এসপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। আদালতের পরামর্শে তদন্তে একজন ফরেনসিক অডিটর যুক্ত করার বিষয়েও রাজ্য সরকার সম্মত হয়েছে।
আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট দেবদত্ত কামাত আদালতে দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ রামমন্দিরে ১০০, ৫০০ বা ১,০০০ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, সেই অর্থের সবটাই ট্রাস্টের কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর বক্তব্য, অনুদানের রসিদ এবং ট্রাস্টের প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দেন, এই মুহূর্তে আদালতের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরপেক্ষ, দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “প্রথমে SIT তাদের রিপোর্ট জমা দিক। তারপর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আদালত বিবেচনা করবে।”
আদালত এদিনের নির্দেশে জানিয়েছে, SIT ইতিমধ্যেই তদন্তভার গ্রহণ করেছে। পরবর্তী শুনানির আগে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তদন্তে কোনও বাধা বা জটিলতা দেখা দিলে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
মামলার আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী অজয় কুমার রাই ও দীনেশ কুমার যাদব। তাঁদের দাবি, আগের SIT-এর কাছে জটিল আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত চালানোর মতো পর্যাপ্ত ফরেনসিক ও অনুসন্ধানী পরিকাঠামো ছিল না। এমনকি অভিযোগ, এফআইআর নথিভুক্ত না করেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছিল, ফলে সেই তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এই ঘটনায় আরজেডি সাংসদ সুধাকর সিংও সুপ্রিম কোর্টে আলাদাভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হোক। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালীন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, আর্থিক বিশেষজ্ঞ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নজরদারি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
আবেদনগুলিতে ট্রাস্ট এবং রাজ্য সরকারকে সমস্ত আর্থিক ও ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুদান রেজিস্টার, হিসাবের খাতা, ব্যাঙ্ক রেকর্ড, ইউপিআই লেনদেনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ই-মেল এবং সার্ভার সংক্রান্ত তথ্য।
উল্লেখ্য, রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছিল। ট্রাস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪,৫৭৫ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মন্দির নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২,৪৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তবে অনুদানের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে এসেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন