রাম মন্দিরে দানের টাকা চুরির ঘটনায় যখন শোরগোল চলছে সে সময়েই আরও এক খ্যাতনামা প্রাচীন মন্দির থেকেও দানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠলো। অভিযোগ সামনে আসতেই বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (BKTC) উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি এক হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটিকে চিঠি দেওয়ার পরেই তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের রাম মন্দিরে দানের টাকা চুরির ঘটনার পর এবার বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডেও মন্দিরের দানের টাকা চুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বদ্রীনাথ ধার্মিক ভাবনার কেন্দ্র। কিন্তু কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাইছে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামীর সরকার এবং তাঁর বদনাম করতে চাইছে।
ভৈরব সেনা নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটিকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর আগেই তারা এই বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জানালেও, তিনি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।
যদিও অতীতে গুরুত্ব না দিলেও, তাঁর কাছে অভিযোগের চিঠি জমা পড়ার পর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হেমন্ত দ্বিদেবী। অভিযুক্ত ওই কর্মী এর আগে তিনজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হেমন্ত দ্বিবেদী দ্য প্রিন্টকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তের কাজ করা হয়েছে এবং দানের টাকা গোণার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, অনেকেই তাঁর ব্যক্তিগত সচিবকে এই চুরির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে। যদিও সে দাবী সঠিক নয়। কারণ তাঁর কোনও ব্যক্তিগত সচিব নেই। যাকে আমার ব্যক্তিগত সচিব বলা হচ্ছে তিনি মন্দির কমিটির এক দীর্ঘদিনের কর্মচারী।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হলেও সেই ফুটেজ স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মন্দির কমিটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সোহন সিং রাঙ্গাদ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে কিছু পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত কেদারনাথ বদ্রীনাথ মন্দিরে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা দান হিসেবে এসেছে। এছাড়াও মন্দিরের গেস্ট হাউস থেকেও বড়ো অঙ্কের আয় করেছে মন্দির কমিটি। যেখান থেকে বছরে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা আয় হবার কথা।
তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে কেদারনাথ মন্দির থেকে সোনাচুরির অভিযোগ করেছিলেন শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “কেদারনাথে অনেক বড় সোনার কেলেঙ্কারি হয়েছে। কেন প্রকাশ্যে সেই প্রসঙ্গ তোলা হয়নি? সেখানে কেলেঙ্কারি করার পর, এখন দিল্লিতে আর একটি কেদারনাথ তৈরি করার কথা বলা হচ্ছে। তারপর আবার একটি কেলেঙ্কারি হবে। কেদারনাথ থেকে ২২৮ কেজি সোনা হারিয়ে গেছে।… কোনও তদন্ত শুরু হয়নি। এর জন্য দায়ী কে?... এখন বলছে তারা দিল্লিতে কেদারনাথ তৈরি করবে, এটা হতে পারে না। কেদারনাথ ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। তার জায়গা নির্দিষ্ট। দিল্লিতে আর একটি কেদারনাথ হতে পারে না।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন