Om Birla: লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ; অতীতে কতবার অনাস্থা আনা হয়েছে?

People's Reporter: ১৮তম লোকসভায় কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ হল, অনাস্থা প্রস্তাব পাস করতে বিরোধীদের ৫৪৩ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ২৭২ জন সদস্যর সমর্থন প্রয়োজন।
স্পিকার ওম বিড়লা
স্পিকার ওম বিড়লা ফাইল ছবি
Published on

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হল। মঙ্গলবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করলেন কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান পঞ্চাশ জন সাংসদ। এদিন লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার কেন উপস্থিত নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মতে, ডেপুটি স্পিকার না থাক্য সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল। যদিও সেইসময় এই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্র অনুসারে ১১৯ সাংসদের স্বাক্ষর সহ এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। প্রস্তাব জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। সেই প্রস্তাব গৃহীত হবার পর তা সংসদে আসে। এই নিয়ে চতুর্থবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হল।

কংগ্রেস সহ বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও সেই সময় তাতে স্বাক্ষর করেনি তৃণমূল। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “তিন দিন সময় দিয়ে যদি কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনে তাহলে তৃণমূলের সব সাংসদ তাতে সই করতে আপত্তি নেই। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই করতে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। আমাদের বক্তব্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে যৌথভাবে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হোক। তিন দিনের সময় দেওয়া হোক। এই প্রক্রিয়া মানা হলে তবেই তৃণমূল অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবে।” যদিও এই মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান বদল করেছে তৃণমূল। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অনাস্থা সমর্থন করছে তৃণমূল এবং ভোটাভুটিতে তারা বিরোধীদের পক্ষ নেবেন।

কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ জানিয়েছিলেন, ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৯৪সি অনুসারে এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে প্রস্তাব আনা হয়। ওই সময় প্রথমবার জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবে তারিখের ভুল থাকায় তা সংশোধন করে দ্বিতীয়বার জমা দেওয়া হয়। প্রথমবার ২০২৬-এর জায়গায় ২০২৫ লেখা হয়েছিল।

অনাস্থা প্রস্তাবে প্রধানত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বলতে না দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে না দেওয়া হলেও বিজেপির নিশিকান্ত দুবে একটি বই থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে এবং উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তৃতা দেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় বিরোধীরা প্রতিবাদ জানালে ৮ বিরোধী সাংসদকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়।

কীভাবে পাশ হয় অনাস্থা প্রস্তাব?

১৮তম লোকসভায় কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ হল, অনাস্থা প্রস্তাব পাস করতে বিরোধীদের ৫৪৩ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ২৭২ জন সদস্যর সমর্থন প্রয়োজন।

যদিও সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) বর্তমান সংসদ সদস্য সংখ্যা ২৯৩, যেখানে বিরোধী দলের সংখ্যা ২৩৮। এই পরিসংখ্যানের নিরিখে বর্তমান সংখ্যার দিকে তাকালে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব পাস করানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

অতীতে তিনবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে

অতীতেও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নজির আছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সেই সময় স্পিকার ছিলেন কংগ্রেসের বলরাম জাখর।

এর আগে ১৯৬৬ সালে স্পিকার হুকুম সিং-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হলেও তাতে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর না থাকায় সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

১৯৫৪ সালে স্পিকার জি ভি মবলঙ্করের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল। যদিও কোনবারই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কার্যকরী করে স্পিকারকে অপসারণ করা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা যা জানাচ্ছেন

সংসদীয় বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন বর্তমান স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিরল এবং বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার গভীরতা প্রতিফলিত করে। যদিও লোকসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই ধরনের প্রস্তাব সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবুও এর গ্রহণ এবং আলোচনা অধিবেশন চলাকালীন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

স্পিকার ওম বিড়লা
No Confidence: স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব; কংগ্রেস সহ বিরোধীরা থাকলেও নেই তৃণমূল
স্পিকার ওম বিড়লা
Om Birla: স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে নেই তৃণমূল, সেটিংয়ের অভিযোগে সরব সিপিআইএম-কংগ্রেস

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in