No Confidence: স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব; কংগ্রেস সহ বিরোধীরা থাকলেও নেই তৃণমূল

People's Reporter: কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে অন্যান্য বিরোধী দল স্বাক্ষর করলেও স্বাক্ষর করেনি তৃণমূল। ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এই নিয়ে চতুর্থবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হচ্ছে,
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীফাইল ছবি, গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলো কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল। যদিও এই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্র অনুসারে ১১৯ সাংসদের স্বাক্ষর সহ এই অনাস্থা প্রস্তাব মঙ্গলবার জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব জমা দিয়েছেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। যদি এই প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং সংসদে আসে সেক্ষেত্রে এই নিয়ে চতুর্থবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হবে। তবে এই অনাস্থা ঘিরে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেস সহ বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তাতে স্বাক্ষর করেনি তৃণমূল। এদিন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের জানান, “তিন দিন সময় দিয়ে যদি কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনে তাহলে তৃণমূলের সব সাংসদ তাতে সই করতে আপত্তি নেই। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই করতে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। আমাদের বক্তব্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে যৌথভাবে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হোক। তিন দিনের সময় দেওয়া হোক। এই প্রক্রিয়া মানা হলে তবেই তৃণমূল অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবে।”

কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৯৪সি অনুসারে এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছে। এদিন প্রথমবার জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবে তারিখের ভুল থাকায় তা সংশোধন করে দ্বিতীয়বার জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার ২০২৬-এর জায়গায় ২০২৫ লেখা হয়েছিল।

অনাস্থা প্রস্তাবে প্রধানত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বলতে না দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে না দেওয়া হলেও বিজেপির নিশিকান্ত দুবে একটি বই থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে এবং উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তৃতা দেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় বিরোধীরা প্রতিবাদ জানালে ৮ বিরোধী সাংসদকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়।

অতীতেও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নজির আছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সেই সময় স্পিকার ছিলেন কংগ্রেসের বলরাম জাখর। এর আগে ১৯৬৬ সালে স্পিকার হুকুম সিং-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হলেও তাতে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর না থাকায় সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। ১৯৫৪ সালে স্পিকার জি ভি মবলঙ্করের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল। যদিও কোনবারই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কার্যকরী করে স্পিকারকে অপসারণ করা যায়নি।

সংসদীয় বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন বর্তমান স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিরল এবং বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার গভীরতা প্রতিফলিত করে। যদিও লোকসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই ধরনের প্রস্তাব সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবুও এর গ্রহণ এবং আলোচনা অধিবেশন চলাকালীন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
Budget Session: "এই সংসদে বিরোধীদের কোনো জায়গা নেই" - স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তুতি ইন্ডিয়ার
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
Budget Session: প্রধানমন্ত্রী 'স্পিকারের আড়ালে' লুকোচ্ছেন; হুমকির কথা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ - কংগ্রেস

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in