প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ‘পিছনে লুকোচ্ছেন’ এবং দাবি করছেন তাঁকে কেউ আঘাত করার পরিকল্পনা করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা জানিয়েছেন লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। এদিনই তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার এক মন্তব্যের উত্তরে একথা বলেন।
স্পিকারের মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যে। প্রধানমন্ত্রীর ওপর কেউ হাত তোলার বা আঘাতের চেষ্টা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাই কেউ এরকম বলতে পারেন না যে এরকম কোনও পরিকল্পনা ছিল। এই ধরণের কোনও পরিকল্পনা ছিলনা।
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, কিন্তু আপনি যদি বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেন, বাজে কথা বলতে দেন তাহলে বিরোধী দল প্রতিবাদ জানাবেই। আমি দুঃখিত যে প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের পিছনে লুকোচ্ছেন এবং তাঁকে এসব বলতে বাধ্য করছেন। কারণ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সংসদে আসার সাহস হয়নি।
সংসদে জে পি নাড্ডার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা কি কারো সম্পর্কে কথা বলার কোনো পদ্ধতি? তাঁকে কথা বলতে দেওয়া উচিত। তারা কী নিয়ে ভয় পাচ্ছে — যে তিনি কোনো বই থেকে উদ্ধৃতি দেবেন? নাকি তারা এপস্টাইন ফাইলগুলো নিয়ে ভয় পাচ্ছে? নাকি তারা ভয় পাচ্ছে যে আমরা ভারত-মার্কিন চুক্তি নিয়ে তাদের প্রশ্ন করব, যার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
নিজের বক্তব্যে জে পি নাড্ডা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশনের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আপনারা সংসদকে কাজ করতে দেননি। গণতন্ত্র বিপন্ন—এই অভিযোগের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। আপনাদের দলের ভেতরেও এই বিষয়টি বোঝা উচিত। গণতন্ত্রে সবকিছু গণতান্ত্রিকভাবে করা উচিত। একটি অপরিণামদর্শী শিশুর হাতে দলকে বন্দী হতে দেবেন না।”
এদিনই লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় আসতে বারণ করেছেন। কারণ তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে যে, একাধিক কংগ্রেস সাংসদ প্রধানমন্ত্রী যেখানে বসেন সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে স্পিকার আরও বলেন, বুধবার তাঁদের কয়েকজনের আচরণ যথাযথ ছিল না এবং প্রকৃতপক্ষে এটি একটি কালো দাগের মত।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন