‘প্রধানমন্ত্রী আপোষ করেছেন’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কে মঙ্গলবার বিস্ফোরক এই অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভান এবং চীন সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্য নিয়ে লোকসভায় বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁকে বলতে না দেওয়া হলে সংসদ ভবনের বাইরে এসে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাপে পড়ে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে বিচলিত হয়ে পড়েছেন এবং ভয় পাচ্ছেন যে এতে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের সামনে তাঁর বক্তব্যে আদানি থেকে এপস্টিন ফাইল, সব প্রসঙ্গই টেনে আনেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদিজী ভীত, কারণ যারা তাঁর ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন, তারাই এখন সেই ভাবমূর্তি ভেঙে দিচ্ছেন... আদানিজীর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মামলা হয়েছে। যা আসলে মোদিজীর বিরুদ্ধেই মামলা... এপস্টিন ফাইলসে এমন আরও অনেক কিছু আছে যা আমেরিকা এখনও প্রকাশ করেনি। সে কারণেও চাপ তৈরি হচ্ছে। এগুলোই চাপের দুই প্রধান উৎস। দেশের এটা বোঝা উচিত।”
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারত আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি গত কয়েকমাস ধরে আটকে ছিল। যা গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাক্ষর করেছেন। তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
সোমবারের মত এদিনও লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের সময় তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল গান্ধী। গতকাল সংসদে ভাষণ দেবার সময় তিনি যখন প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে ভারত-চীন সম্পর্কিত বিষয় উদ্ধৃত করতে যান তখন তাঁকে বাধা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর স্পীকারও তাঁকে বলতে বাধা দেন বলে জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমঝোতা করার অভিযোগ এনে এদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এর অর্থ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমঝোতা করে চলছেন। সাধারণ মানুষের এই বিষয়ে ভাবা উচিত। এই প্রথম বিরোধী দলনেতাকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর বলতে দেওয়া হচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদীজী এই বাণিজ্য চুক্তিতে দেশবাসীর কঠোর পরিশ্রমকে বিক্রি করে দিয়েছেন, কারণ তিনি আপোষ করেছেন। তিনি দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি জানানো হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ভারতের কৃষি ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে, শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনা হতে পারে এবং ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে—এই ধরণের যেসব দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করেছেন, সেই বিষয়ে ভারত সরকার এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন