বিজেপি আসলে ‘ভ্রষ্ট জনতা পার্টি’। এই ভাষাতেই বিজেপিকে সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। উত্তরাখন্ডে অঙ্কিতা ভান্ডারীর হত্যা, উন্নাও ধর্ষণ এবং ইন্দোরে দূষিত পানীয় জলের প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডবল ইঞ্জিন চলছে, কিন্তু তা শুধু কোটিপতিদের জন্য।
শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) রাহুল গান্ধী লেখেন, “দেশজুড়ে, “ভ্রষ্ট” জনতা পার্টির ডাবল-ইঞ্জিন সরকার জনগণের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অহংকারের বিষ বিজেপির রাজনীতিতে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।”
ওই বিবৃতিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, এঁদের ব্যবস্থায়, দরিদ্র, অসহায়, শ্রমিক এবং মধ্যবিত্তদের জীবন শুধুমাত্র পরিসংখ্যান এবং “উন্নয়নের” আড়ালে চাঁদাবাজির এক ব্যবস্থা কাজ করে।
উত্তরাখণ্ড সহ দেশের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “অঙ্কিতা ভান্ডারীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমগ্র জাতিকে হতবাক করেছে—কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়: ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতায় কোন বিজেপি ভিআইপি সুরক্ষিত? আইন কখন সবার জন্য সমান হবে? উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের ঘটনায়, সারা দেশ দেখেছে ক্ষমতার অহংকার কীভাবে অপরাধীদের রক্ষা করেছিল এবং ন্যায়বিচারের জন্য নির্যাতিতাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।”
ইন্দোরের দূষিত জল পান করে মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “ইন্দোরে বিষাক্ত জল পানের ফলে মৃত্যুর ঘটনা হোক বা গুজরাট, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে “কালো জল” এবং দূষিত জল সরবরাহের অভিযোগ হোক — সব জায়গায় অসুস্থ হবার ভয়।
তিনি আরও লিখেছেন, রাজস্থানের আরাবল্লি পর্বতমালা হোক বা প্রাকৃতিক সম্পদ—যেখানেই কোটিপতিদের লোভ ও স্বার্থ পৌঁছেছে, সেখানেই কোনও নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। পাহাড় কাটা হচ্ছে, বন ধ্বংস করা হচ্ছে — আর সাধারণ মানুষ এর প্রতিদান পাচ্ছে: সর্বত্র ধুলো, দূষণ এবং দুর্যোগ।
রাহুল গান্ধী আরও লিখেছেন, “কাশির সিরাপে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে ইঁদুরের কারণে নবজাতক শিশু মারা যাচ্ছে, সরকারি স্কুলের ছাদ পড়ে যাচ্ছে — এগুলো “অবহেলা” নয়, বরং দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রভাব। সেতু ভেঙে পড়ছে, রাস্তাঘাট ধসে পড়ছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় পরিবারগুলো নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, আর বিজেপি সরকার প্রতিবার একই কাজ করছে: ছবি তোলা, টুইট করা এবং ক্ষতিপূরণের আনুষ্ঠানিকতা।”
এই ট্যুইটেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, “মোদীজির “ডাবল ইঞ্জিন” চলছে — কিন্তু শুধুমাত্র কোটিপতিদের জন্য। সাধারণ ভারতীয়দের জন্য, দুর্নীতির এই ডাবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়ন নয়, বরং ধ্বংসের গতি — প্রতিদিন কারো না কারো জীবন ধ্বংস করছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন