Budget Session: "এই সংসদে বিরোধীদের কোনো জায়গা নেই" - স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তুতি ইন্ডিয়ার

People's Reporter: বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে বলার সুযোগ না দেবার প্রতিবাদেই এই অনাস্থা আনা হতে পারে। অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের কথাও ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে।
সংসদ ভবনের বাইরে সাসপেন্ডেড সাংসদদের বিক্ষোভ
সংসদ ভবনের বাইরে সাসপেন্ডেড সাংসদদের বিক্ষোভছবি, আইএনসি এক্স হ্যান্ডেল ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
Published on

‘সংসদে বিরোধীদের কোন জায়গা নেই’ (No Space for the Opposition) অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে কংগ্রেস। সোমবার রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গের অফিসে ইন্ডিয়া মঞ্চের সাংসদদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে এই বিষয়ে ভাবনা চিন্তা হয়েছে।

বৈঠকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাবের কথা ঘরোয়া ভাবে জানানো হলেও ঠিক কীভাবে অনাস্থার পথে বিরোধীরা এগোবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। মূলত সংসদে বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে বলার সুযোগ না দেবার প্রতিবাদেই এই অনাস্থা আনা হতে পারে। অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের কথাও ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে।

কী জানালেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল?

এই বিষয়ে কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী সাংসদদের সংসদে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বারবার তাঁদের বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদরা অবমাননাকর মন্তব্য সহ লাগাতার বিরোধীদের আক্রমণ করে যাচ্ছেন। না নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন সংসদে কী হচ্ছে। এই অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতেই দেওয়া হয়নি। অথচ শাসকদলের সাংসদরা যাকে খুশি আক্রমণ করে যাচ্ছেন, এমনকি মৃত মানুষজনকেও তাঁরা ছাড়ছেন না।

বেণুগোপাল আরও বলেন, “এই সংসদে বিরোধীদের জন্য কোনো জায়গা নেই। বিরোধীদলীয় নেতা হোন বা অন্য বিরোধী নেতারা, কাউকেই কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধীদের প্রতি এমন মনোভাব আগে কখনো দেখা যায়নি।”

কোন ঘটনা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?

গত সপ্তাহের এক নজিরবিহীন ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। যখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথাগত জবাব না দেওয়া সত্ত্বেও লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব পাস করা হয়। এর একদিন আগে নির্ধারিত বিরোধী সদস্যদের অবিরাম স্লোগান দেওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে স্পিকার জানিয়েছিলেন, তিনিই লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে আসতে বারণ করেছিলেন।

বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ কী?

বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলবার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওইদিন রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারভানের এই অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে গেলে তাঁকে বাধা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। যদিও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে অন্য একটি বই থেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় পাঠ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর সময় শেষ হয়ে গেলেও তিনি বক্তৃতা চালিয়ে যান। যার বিরুদ্ধে স্পিকার ওম বিড়লা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

কীভাবে আনা যেতে পারে অনাস্থা প্রস্তাব?

ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৯৪-সি অনুসারে স্পিকারের ওপর অনাস্থা আনা যেতে পারে। যেখানে কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সংবাদ সংস্থার সূত্র যদিও জানাচ্ছে লোকসভা থেকে কমপক্ষে ১০০ সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হবে। অনাস্থা আনার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন আগে নোটিশ দিতে হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনাস্থা প্রস্তাব আনার ১৪ দিন পর যখন এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তখন থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত এই বিষয়ে মীমাংসা না হয় ততক্ষণ স্পিকার সভা পরিচালনা করতে পারবেন না। যদিও তিনি সভাতে উপস্থিত থাকতে পারেন, নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হলে স্পিকারকে তাঁর পদ ছাড়তে হয়।  

কী জানাচ্ছেন স্পিকার ওম বিড়লা?

বিগত কয়েকদিনের অধিবেশনে স্পিকারের আচরণ নিয়ে বিরোধীরা বারবার সরব হলেও স্পিকার ওম বিড়লা এদিন জানিয়েছেন, যদি আপনারা ভবনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেন তাহলে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ওপর আস্থা হারাবে। আপনারা সকলেই সিনিয়র নেতা এবং আপনাদের কখনোই সংসদের নিয়ম ভঙ্গ করা উচিত নয়। শ্লোগান বা পোষ্টার দিয়ে প্রতিবাদ করা যায় না। প্রতিবাদ করতে হয় যুক্তি দিয়ে।  

লোকসভার বাজেট অধিবেশন ২০২৬

লোকসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে। ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার পর থেকে শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও প্রতিদিনই সংসদের দুই কক্ষেই অধিবেশনের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়েছে। আজ বাজেট অধিবেশনের নবম দিনেও একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হয়্যেছে। প্রথম দফায় বাজেট অধিবেশন চলার কথা আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং এরপর দ্বিতীয় দফায় ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।

সংসদ ভবনের বাইরে সাসপেন্ডেড সাংসদদের বিক্ষোভ
Priyanka Gandhi Vadra: সংসদের অধিবেশন চলুক তা চাইছে না মোদী সরকার - প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা
সংসদ ভবনের বাইরে সাসপেন্ডেড সাংসদদের বিক্ষোভ
Budget Session: প্রধানমন্ত্রী 'স্পিকারের আড়ালে' লুকোচ্ছেন; হুমকির কথা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ - কংগ্রেস

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in