Om Birla: স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে নেই তৃণমূল, সেটিংয়ের অভিযোগে সরব সিপিআইএম-কংগ্রেস

People's Reporter: সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘’বিজেপিকে বরাবর সাহায্য করেছে তৃণমূল। লোকসভায় বিভিন্ন সময়ে বিল পাসের ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট দেখেছি। একদম ভোটের মুখে আরও একবার সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল।"
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাফাইল ছবি
Published on

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের আনা প্রস্তাবে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থন জানালেও, সই করেনি তৃণমূল। এরপরই ‘বিজেপি-তৃণমূল সেটিং’ ইস্যুতে সরব হয়েছে কংগ্রেস এবং সিপিআইএম। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, তিন দিন সময় দিয়ে যদি কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনে তাহলে তৃণমূলের তাতে সই করতে আপত্তি নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছে। এই প্রস্তাব জমা দিয়েছেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। প্রস্তাবে প্রধানত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বলতে না দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে। কংগ্রেস ছাড়াও প্রস্তাবে সই করেছেন সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, ডিএমকে, সিপিআইএম-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা। কিন্তু, তৃণমূলের সাংসদরা সই করেননি!

তৃণমূলের এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘’স্পিকারের বিরুদ্ধে এই যে প্রস্তাব তাতে তৃণমূল সই না করে প্রমাণ করে দিল, বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও মুভ (লড়াই) হলে তাতে তারা নেই। একেবারে স্পষ্ট করে দিল আবারও। সেই কারণে বলল, আরও কয়েকদিন সময় চাই। মানে, রফা হতে হয়তো আর দু'-একটা বাকি আছে। অতএব কিছু বলার সাহস নেই। বিজেপিকে বরাবর সাহায্য করেছে তৃণমূল। লোকসভায় বিভিন্ন সময়ে বিল পাসের ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট দেখেছি। একদম ভোটের মুখে আরও একবার সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল।"  

অন্যদিকে মঙ্গলবার ফের সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেছে আইপ্যাক-মামলার শুনানি। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলা শোনা হবে। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছিল। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করা এবং আদালতে আইপ্যাক-মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়া - এই দুইয়ের পিছনেই 'সেটিং' দেখছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "আজ কেন কপিল সিব্বলের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে, তারা (রাজ্য সরকার) যে ডেট চাইছে, সেই ডেটেই রাজি হচ্ছে ইডি? যে ইডি একদিন ধরতে গিয়েছিল তাদের? তুমি আর আমি, আমরা মালাইটা ভাগ করে খাব, তাই না?... বলতে চাইছে আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে গোটাটা ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছি। যদি ম্যানেজ না হয়, তোমরা বাকিটা দেখে নিও।"

উল্লেখ্য, স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করা প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের জানান, “তিন দিন সময় দিয়ে যদি কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনে তাহলে তৃণমূলের সব সাংসদ তাতে সই করতে আপত্তি নেই। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই করতে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। আমাদের বক্তব্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে যৌথভাবে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হোক। তিন দিনের সময় দেওয়া হোক। এই প্রক্রিয়া মানা হলে তবেই তৃণমূল অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবে।”

বিজেপি অবশ্য এই সেটিং তত্ত্ব পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ''একের পর এক বেকায়দায় পড়েছে তৃণমূল। তাই এখন যদি বাঁচা যায়, শেষ রক্ষা মোদিজির স্মরণম হয়ে। বাংলার ক্ষমতা এবার বিজেপি নেবেই। কারণ জনতা এবার তৃণমূলকে চিনে গেছে, তাই এখন এত বিরোধিতা করে শেষে এখন বাঁচার চেষ্টা হচ্ছে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই না করে।"

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস দিতে গেলে, অন্তত ১০০ জন সাংসদের সই লাগে। কংগ্রেসের আনা প্রস্তাবে ১১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
No Confidence: স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব; কংগ্রেস সহ বিরোধীরা থাকলেও নেই তৃণমূল

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in