নীতিন গডকরি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ডিপফেক, এআই-নির্মিত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর পোস্ট সরানোর নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। বুধবার আদালত Meta, YouTube-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে এই ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গডকরিকে ঘিরে প্রচারিত একাধিক পোস্ট ও ছবি ‘অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অবমাননাকর’ ("vile and abusive.")।
আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের নতুন কোনও পোস্ট বা ডিপফেক কনটেন্ট গডকরির নজরে আসে, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে জানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
E20 বিতর্কে নীতিন গডকরিকে জড়ানোর অভিযোগ
বম্বে হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও, মিম, রিল এবং ভুয়ো উদ্ধৃতির মাধ্যমে তাঁকে কেন্দ্রের E20 বা ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ছড়ানো হয়েছে।
মামলায় Meta (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা), X, Google, YouTube, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক, টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যবহারকারীকে পক্ষ করা হয়েছে।
E20 নীতির সঙ্গে গডকরির কোনও সম্পর্ক নেই: আবেদনে দাবি
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে নীতিন গডকরি দাবি করেছেন, E20 বা Ethanol Blending Programme-এর নীতি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর মন্ত্রকের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির সম্পূর্ণ দায়িত্ব পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিচালনা করে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
‘ন্যায্য সমালোচনা’ নয়, মানহানিকর কনটেন্ট: গডকরির দাবি
নীতিন গডকরির অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বহু কনটেন্টে তাঁকে E20 নীতির মূল উদ্যোক্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই সব কন্টেন্টে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অভিযোগগুলির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং সরকারি নথির সঙ্গেও সেগুলির কোনও মিলও নেই।
শুনানির সময় Meta-র পক্ষ থেকে কিছু কনটেন্টকে ‘ফেয়ার ক্রিটিসিজম’ বা ন্যায্য সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে গডকরির আইনজীবী আদালতকে জানান, মামলার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনস্বার্থে বিতর্ক বন্ধ করা নয়; বরং ডিপফেক, ভুয়ো ছবি এবং মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়া।
১১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি
গত সপ্তাহে নীতিন গডকরি বম্বে হাইকোর্টে ১১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তাঁর নাম, মুখ, কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি ব্যবহার করে ডিপফেক, ফেস-সোয়াপ ভিডিও ও এআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও প্রচার-সংক্রান্ত অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
মামলায় চিহ্নিত ২৬টি নির্দিষ্ট লিঙ্ক সরানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বিচারপতি আরিফ এস. ডক্টরের বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন