

ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে তাঁর অবমাননা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ই-২০-র লাভের টাকা তাঁর ঘরে ঢুকছে। এই অভিযোগ তুলে এবার বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। তাঁর অভিযোগের নিশানায় একাধিক নেটপ্রভাবী। সাম্প্রতিক সময়ে মণীশ কাশ্যপ নামক এক ইউটিউবার ই-২০-র বিরুদ্ধে একাধিক ভিডিও তৈরি করেছেন এবং তাঁর নিজের দামি গাড়ি ই-২০-র জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
দীর্ঘ সময় ধরেই কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। ঘটনাচক্রে তাঁর দুই ছেলে ইথানলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলত নেট প্রভাবীদের একটা অংশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অবস্থানকে তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন। মন্ত্রীর দাবি, একাধিক ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়েই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে চেয়েছেন এবং আদালত তাঁকে এই সংক্রান্ত পিটিশন দাখিলের অনুমতি দিয়েছে।
সোমবার এই আবেদন শোনেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এস লাড্ডা। আবেদন শোনার পর বিচারপতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গড়কড়িকে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অনুমতি দেন।
গত ১৫ জুলাই নাগপুরে চার নেটপ্রভাবীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। যে এফআইআর-এ নাম ছিল মণীশ কাশ্যপ, হর্ষিত রাঠী, আঙ্কলিশ ইনভাটি এবং দেশি বয়েজ এনসিআর নামক একটি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। স্থানীয় থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছিলেন এক বিজেপি নেতা। অভিযোগ ছিল, ই-২০ নিয়ে ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইথানল মিশ্রিত ই-২০ পেট্রোল নিয়ে বিতর্ক চরমে। বহু মানুষেরই দাবি ই-২০ ফলে তাদের গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও ক্রমশ বেড়ে চলা এই বিতর্কের মধ্যেই সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, উপযুক্ত যানবাহনের জন্য এটি নিরাপদ এবং ভারতের জ্বালানি রূপান্তর ও ইথানল-মিশ্রণ কর্মসূচির একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
যদিও এই নীতি কিছু গাড়িচালক, গাড়ি-প্রেমী এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাঁরা জ্বালানি দক্ষতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ইথানলের উচ্চমাত্রার মিশ্রণ পুরোনো গাড়িগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ওই গাড়িগুলো E20 জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন