মহারাষ্ট্রে উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ধের অফিসে গিয়ে বৈঠক করলেন বর্ষীয়ান এনসিপি (এসপি) গোষ্ঠীর প্রধান শারদ পাওয়ার। যে ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক গুঞ্জন। বুধবার একনাথ শিন্ধের অফিসে নিজের দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন বর্ষীয়ান এনসিপি (এসপি) নেতা শারদ পাওয়ার।
তাঁর অফিসে শারদ পাওয়ারের যাওয়া প্রসঙ্গে এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ধে জানিয়েছেন, এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) দলের সভাপতি তথা সাংসদ শরদ পওয়ার আজ বিধানমন্ডলে আমার কক্ষে এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন। আজ বিধান ভবনে কর্ণাটক-মহারাষ্ট্র সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে 'বিশেষাধিকার কমিটি'র (Privileges Committee) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পর তিনি আমার কক্ষে এসে এই সাক্ষাৎপর্বে অংশ নেন। এ সময় আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শাল ও পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধেয় পওয়ার সাহেবকে স্বাগত জানাই।
প্রসঙ্গত, বুধবারই মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক রাজ্যের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে গঠিত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিধানসভার মন্ত্রিসভা বৈঠক কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ধে ও সুনেত্রা পাওয়ার, এনসিপি (এসপি) প্রধান শারদ পাওয়ার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
শোনা যাচ্ছে, এবার এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে পারে শারদ পাওয়ারের এনসিপি। যদিও এই বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে এই বৈঠকের পরেই শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিতণ্ডায় জড়িয়েছে শিবসেনা শিন্ধে গোষ্ঠী।
বুধবারের বৈঠক প্রসঙ্গে শিবসেনা (ইউবিটি) মুখপাত্র সঞ্জয় রাউথ বলেন, একনাথ শিন্ধের অফিসে গিয়ে শারদ পাওয়ারের বৈঠকের ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত। তিনি আরও বলেন, শারদ পাওয়ারের মত একজন বর্ষীয়ান নেতার এই আচরণ অবাক করার মত। তিনি আরও বলেন, যে বিশ্বাসঘাতক আমাদের সরকারের পতন ঘটিয়েছে তার অফিসে গিয়ে এই ধরণের বৈঠক করলে একজন প্রবীণ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।
শিবসেনা (ইউবিটি) মুখপাত্র বলেন, শারদ পাওয়ার যা চান তা তিনি করতেই পারেন। তা করার অধিকার তাঁর আছে। তবে এই বিষয়ে তিনি শারদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলবেন। সঞ্জয় রাউথ বলেন, তিনি আশাবাদী যে শারদ পাওয়ার এনডিএ জোটে যোগ দেবেন না।
সঞ্জয় রাউথের মন্তব্যের উত্তরে এনসিপি শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অমল মাতোলে জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে এমভিএ প্রতিষ্ঠাতা শারদ পাওয়ারের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এর আগে উদ্ধব ঠাকরেও বৈঠক করেছেন। শিবসেনা (ইউবিটি)-র বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতি অবলম্বনের অভিযোগ তুলে এনসিপি (এসপি) জানিয়েছে, রাজনীতি আবেগ দিয়ে নয়, অঙ্ক দিয়ে হয়। যদি শিন্ধের সঙ্গে পাওয়ারের একটি বৈঠকেই মহা বিকাশ আঘাদির এই অবস্থা হয় তাহলে এটাই প্রমাণ হয় যে এমভিএ ভোটের ভিত্তি খুবই দুর্বল। তিনি আরও বলেন, শারদ পাওয়ারকে তাঁর রাজনীতি করতে দিন আর আপনি নিজের শিবসেনা নিয়ে ভাবুন। নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করুন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন