Maharashtra: চাই বৈষম্যমুক্ত সমাজ; মহারাষ্ট্রের সৌন্দালাকে জাতপাতহীন গ্রাম হিসেবে ঘোষণা গ্রামসভার

People's Reporter: সৌন্দালাকে জাতপাতমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গ্রামসভা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই গ্রামে জাতি ধর্ম বর্ণের কোনও বৈষম্য থাকবে না।
সৌন্দালা গ্রামে গ্রামসভার ছবি
সৌন্দালা গ্রামে গ্রামসভার ছবি ছবি গ্রামপঞ্চায়েত সৌন্দালা ডট কম থেকে সংগৃহীত
Published on

৫ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক জাতপাতমুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানালো মহারাষ্ট্রের মহাত্মা ফুলে সমাজ সেবা মণ্ডল (MPSSM)। একইসঙ্গে রাজ্যের সৌন্দালা-কে প্রথম জাতপাতমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের আশা, এই ধারা অনুসরণ করে আগামী দিনে ভারতের আরও অনেক গ্রাম নিজেদের জাতপাতমুক্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলবে।

চলতি মাসের ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম মহারাষ্ট্রের অহল্যানগর (আগেকার নাম আহমেদনগর, ২০২৪ সালে এই নাম বদল হয়) জেলার নেভাসা তফশিলের সৌন্দালা গ্রামকে গ্রামসভার পক্ষ থেকে ‘জাতপাতমুক্ত গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের সভাপতি প্রমোদ জিনজাদে জানান, আমাদের আশা এই ধারা অনুসরণ করে আগামী দিনে দেশের আরও অনেক গ্রাম এভাবেই নিজেদের জাতপাতমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করবে।

সৌন্দালাকে জাতপাতমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গ্রামসভা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই গ্রামে জাতি ধর্ম বর্ণের কোনও বৈষম্য থাকবে না। গ্রামের সব নাগরিক সমান এবং গ্রামবাসীরা সকলে ‘আমরা সবাই মানুষ’ মেনে চলার সংকল্প নিয়েছে। এই গ্রামের সমস্ত সরকারি পরিষেবা, গ্রামের সব জায়গা, জল, ধর্মস্থান, স্কুল, সামাজিক অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই গ্রামের কেউ সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু পোষ্ট করবে না যাতে অস্পৃশ্যতা, সামাজিক বয়কট, সামাজিক অবিচারের মত কোনও বিষয় থাকবে। জাতিগত পক্ষপাত বা বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে এরকম কাজ কেউ করবে না। যদি কেউ এই ধরণের কাজ করে সেক্ষেত্রে গ্রামসভা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এখন থেকে সৌন্দলা গ্রামকে জাতপাতমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের কাছে এক আবেদনে ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতপাতমুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘকে পাঠানো এই বিষয়ক চিঠি এদিনই প্রকাশ্যে আনা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর, সমাজ সংস্কারক মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে এবং সাবিত্রীবাই ফুলে, রাজর্ষি সাহু মহারাজ এবং মহাত্মা গান্ধীর সাম্য ও মানবতাবাদী চিন্তাধারার দ্বারা অনুপ্রাণিত এই সংগঠন। গত ৫ ফেব্রুয়ারির এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সৌন্দালা গ্রামের সরপঞ্চ শরদ বাবুরাও আরগাড়ে। এই সভায় ২০০-র বেশি গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। সভা উপলক্ষ্যে এদিনই গ্রামে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এই গ্রামে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করেন। যাদের মধ্যে সাবর্ণ, বহুজন, কয়েক ঘর মুসলিম আছে।  

তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগেও সৌন্দালা গ্রামে একাধিক প্রগতিশীল, জনসচেতনতা মূলক এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে আছে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা, বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা, বিধবা মহিলাদের পুনর্বিবাহের অনুমতি দেওয়া, পারিবারিক হিংসা ও যৌতুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার এবং গ্রামে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা জাতীয় বিশেষ কিছু প্রস্তাব।

২০১১-র জনগণনার হিসেব অনুসারে এই গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,৮৮২। যার মধ্যে পুরুষ ৯৭৩ এবং মহিলা ৯০৯। এই গ্রামে প্রতি হাজার পুরুষ পিছু মহিলার সংখ্যা ৯৩৪। যা মহারাষ্ট্রের অনুপাতে বেশি। এই গ্রামের সাক্ষরতার হার ৮০.৬৬ শতাংশ। যেখানে পুরুষদের সাক্ষরতার হার ৮৭.৯৯% এবং মহিলাদের ৭২.৯৫%।

সৌন্দালা গ্রামে গ্রামসভার ছবি
Rahul Gandhi: দলিত-বহুজনের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় এরা - 'ফুলে' সিনেমা নিয়ে BJP-RSS-কে আক্রমণে রাহুল
সৌন্দালা গ্রামে গ্রামসভার ছবি
Karnataka: পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ সাভারকর, হেডগেওয়ার - যুক্ত হচ্ছে সাবিত্রীবাঈ ফুলে, আম্বেদকর, নেহেরু

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in