

মহারাষ্ট্র পুরসভার ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই দ্বন্দ্ব বাড়ছে ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটের। বিশেষ করে প্রধান শরিক বিজেপির সঙ্গে অজিত পাওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠীর পারস্পরিক বাক্য বিনিময় এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অজিত পাওয়ারের উদ্দেশ্যে বিজেপি নেতা এবং রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে হুমকি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বিগত কয়েকদিন ধরেই আরএসএস প্রসঙ্গ নিয়ে বিজেপি এবং এনসিপি (এপি) গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্ক চলছে। যে বিতর্কে গতকাল বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের মন্তব্যকে যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যিনি গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে অজিত পাওয়ারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, উনি গেরুয়া শিবিরের সমালোচনা করা বন্ধ করুন এবং আমাদের পুরোনো ঘটনা তুলে আনতে বাধ্য করবেন না।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাজ্যের এক মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বলেছেন, মহাযুতি শিবিরের সমন্বয়রক্ষাকারী কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছিল যদি পুরসভা নির্বাচনে জোট শরিকরা আলাদা আলাদা ভাবে লড়াই করে সেক্ষেত্রে কেউ কারোর বিরুদ্ধে কিছু বলবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি আশা করবো অজিত পাওয়ারও সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশও সেই সিদ্ধান্ত মেনে একনাথ শিন্ধের শিবসেনা অথবা অজিত পাওয়ারের এনসিপি-র বিরুদ্ধে কিছু বলছেন না।
এরপরেই তিনি বলেন, আমি মনে করিয়ে দিতে চাই অতীতেও অনেককিছু ঘটনা আছে এবং আমরা কেউই অতীত ঘাঁটতে চাই না। অজিত দাদা মহাযুতির প্রধান তিন নেতার অন্যতম। আমি আশা করবো তিনি বিজেপি বা অন্য জোট শরিকদের সমালোচনা করবেন না।
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বাওয়ানকুলেকে অজিত পাওয়ারের ৭০ হাজার কোটির দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। মামলার রায় বেরোলে সবকিছু সামনে আসছে। আমরা তখন বিরোধী আসনে ছিলাম এবং সেইসময়ে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে অভিযোগ এনেছিলাম।
সম্প্রতি পুর নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে উন্নয়নের প্রশ্নে বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন জোট শরিক অজিত পাওয়ার। যা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে জোট শরিকদের মধ্যে। এছাড়াও আরএসএস-কে মেনে চলার বিষয়ে এক বিজেপি নেতার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায় অজিত পাওয়ারের দল। যা নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হয়।
গত সপ্তাহের শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অজিত পাওয়ার বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৭০,০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছিল; কিন্তু আজ আমি তাঁদের সঙ্গেই সরকারে আছি, যারা এই অভিযোগগুলো তুলেছিল। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে কীভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায়? গ্যাংস্টার বান্দু আন্দেকার এবং গজানন মার্নের আত্মীয়দের প্রার্থী হিসেবে তার দল সমর্থন করছে — এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে অজিত পাওয়ার একথা বলেন।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে অজিত পাওয়ার এবং তাঁর পরিবারের নামে। গত বছরে ১৮০০ কোটি টাকার সরকারি জমি ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রি করা নিয়ে অজিত পাওয়ারের ছেলের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পরেই ২০২১ সালে বাজেয়াপ্ত করা অজিত পাওয়ারের হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয় আয়কর দপ্তর। অজিত পাওয়ার এবং তাঁর বোনের বেনামি সম্পত্তি নিয়ে মামলা প্রিভেনশন অফ বেনামি প্রপার্টি ট্রান্সকশনস অ্যাপিলেট ট্রাইবুন্যাল (Prevention of Benami Property Transactions Appellate Tribunal) খারিজ করে দেয়। এছাড়াও অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। যে মামলায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ক্লিনচিট দেয় মহারাষ্ট্র পুলিশের ইকনোমিক অফেন্সেস উইং (EOW)। তাঁর বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র স্টেট কো অপারেটিভ ব্যাঙ্ক (MSCB) মামলায় ২৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
এই প্রসঙ্গে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে। যেখানে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে অবৈধ খননকারীদের পক্ষে এক মহিলা আইপিএস অফিসারকে হুমকি দেবার অভিযোগ ওঠে। সেসময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহারাষ্ট্রের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে জানিয়েছিলেন, “অজিত পাওয়ার কখনও অবৈধ কাজের পক্ষে নেই। ভিডিওতে যা ছড়িয়েছে, সেটি কেবল তাঁর মানুষের অভিযোগ শোনার ও সমাধান করার চেষ্টা।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন