

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জল দূষণ জনিত ঘটনায় একাধিক মৃত্যু এবং বহু মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে চলে এল বিজেপির দ্বন্দ্ব। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী এই ঘটনায় সরাসরি সরকার এবং প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এক বিবৃতিতে একথা জানান।
বৃহস্পতিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) বিজেপি নেত্রী লেখেন, “শুধু ইন্দোরের মেয়রই নন, পুরো মধ্যপ্রদেশ সরকার ও প্রশাসনই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।” যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে মধ্যপ্রদেশ সরকারের আধিকারিকদের বক্তব্য, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছিল। যে বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতী। তিনি আরও বলেন, “যদি আপনাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থেকে থাকে, তাহলে কেন আপনারা পদে বসে বোতলজাত জল পান করে গেলেন? কেন আপনারা পদত্যাগ করে মানুষের কাছে যাননি? এই ধরনের পাপের কোনও ব্যাখ্যা হয়না, শুধু অনুতাপ অথবা শাস্তির প্রয়োজন।”
নিজের বিবৃতিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী লেখেন, “২০২৫ সালের শেষে ইন্দোরে দূষিত জলের কারণে হওয়া মৃত্যু আমাদের রাজ্য, আমাদের সরকার এবং আমাদের পুরো ব্যবস্থাকে লজ্জিত ও কলঙ্কিত করেছে। যে শহর পরিচ্ছন্নতম শহর হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে, সেখানে এমন দূষিত জল, যা এতজন প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং এখনও নিচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।”
সরকারের ক্ষতিপূরণের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “একজন মানুষের জীবনের দাম ২ লক্ষ টাকা নয়। পরিবারগুলো চিরকাল এই শোক বয়ে বেড়াবে। এই পাপের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং উপর থেকে নিচ পর্যন্ত যারা দোষী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”
মধ্যপ্রদেশের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। এক বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, “ইন্দোরে মানুষকে জল সরবরাহ করা হয়নি, বিষ সরবরাহ করা হয়েছে। আর প্রশাসন কুম্ভকর্ণের মত গভীর ঘুমে মগ্ন।”
গতকালই মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী ইন্দোরে জল দূষণের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভারগব জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুসারে ভাগীরথপুরায় চারজন ডায়েরিয়ায় মারা গেছেন। আমি শুনেছি জল দূষণের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও স্থানীয়দের দাবি মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য অনুসারে, ভাগীরথপুরায় পানীয় জলের মূল পাইপে ফুটো থাকার কারণে সেখান দিয়ে দূষিত বস্তু পানীয় জলের সঙ্গে মিশে গেছে। পানীয় জলের লাইনের ওপরেই একটি বাথরুমের নির্মাণ হওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। গত ৯ দিনে এই ঘটনায় ১৪০০-র বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের হাসপাতালে ২৭২ জনকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৭১ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০১ জনের মধ্যে ৩২ জন বর্তমানে আইসিইউ-তে আছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন