India US Deal: 'জাতীয় স্বার্থ বন্ধক...' - ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খাড়গে তোপ

People's Reporter: চুক্তি প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রকাশিত অংশ থেকেই বোঝা গেছে যে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের জাতীয় স্বার্থ বন্ধক রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ফাইল ছবি, গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি ভারতের কৌশলগত জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়েছে এবং মোদী সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন। চুক্তি প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রকাশিত অংশ থেকেই বোঝা গেছে যে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের জাতীয় স্বার্থ বন্ধক রেখেছেন।

মঙ্গলবার এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ বলেন, এই চুক্তি আসলে ‘ফাঁদে পড়া আত্মসমর্পণ’ (Trapped Surrender)। এদিনের দীর্ঘ বার্তায় তিনি বলেন, ‘ট্র্যাপ ডিল’-এর সত্যতা এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে!

নিজের বক্তব্যে ভারত মার্কিন চুক্তির চারটি বিষয় তুলে ধরেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। যার মধ্যে আছে রাশিয়ান তেল এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Russian Oil and Strategic Autonomy), ভারতের কৃষকদের পিঠে তীব্রভাবে ছুরি মারা (India’s Farmers Bitterly Backstabbed), আমাদের গো-মাতা এবং দুগ্ধ চাষিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা (Betraying our Gau-Mata & Dairy Farmers) এবং আমাদের পোশাক ব্যবসার ক্ষতি (Hurting our Appareal Sector)।

নিজের বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, আমাদের বলা হয়েছিল যে ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ান তেল সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। যদিও মিঃ ট্রাম্প প্রকাশ্যে অন্য কথা টুইট করেছিলেন। এখন হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট শিটে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে “রাশিয়ান ফেডারেশনের তেল কেনা বন্ধ করার ভারতের প্রতিশ্রুতি” তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মোদী সরকার ভারতের সার্বভৌমত্বের এই ক্ষতিতে সম্মত হয়েছে। কেন?

খাড়গে লিখেছেন, ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, কোনও সরকার বিদেশী পণ্যের জন্য আমাদের কৃষিকে সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এখন, আমরা জানি মোদী সরকারের দ্বারা সম্মত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে "অতিরিক্ত পণ্য" বলতে আসলে কী বোঝায়! ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে 'ডাল' নীরবে যুক্ত করা হয়েছে, যা ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারি করা ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতির অংশ ছিল না। ভারতে লাল জোয়ার আমদানির উপযোগিতা যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু "পশুখাদ্য" সম্পর্কিত সেই উপযোগিতা এখন ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

ওই বিবৃতিতেই কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুকনো ডিস্টিলারের শস্য (DDG) এবং পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার সহ খাদ্য ও কৃষি পণ্য আমদানির কথা বলা হয়েছে। এটা সকলের জানা যে, যদি ভারতীয় গবাদি পশুরা আমেরিকান খাদ্য গ্রহণ করে, যা মূলত GM (জিনগতভাবে পরিবর্তিত) হয়, তা আমাদের গবাদি পশুর জাত এবং আমাদের দুধের স্বাদ পরিবর্তন করবে। এখন এই ছাড়কে স্বচ্ছ দেখানোর জন্য আমূলকে বাধ্য করে সংবাদপত্রে পুরো পাতার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও আসল সত্যি হল, মোদী সরকার ২০১৭ সাল থেকে জিএম ফিড অনুমোদন করেনি, এবং এখন হঠাৎ করেই এটি অনুমোদন করছে।

খাড়গে জানিয়েছেন, দেশের ২ কোটি দুগ্ধ চাষী এর পরিণতি ভোগ করবে, কিন্তু আরএসএস-সংঘ পরিবার-বিজেপি, যারা গরুর নামে গণপিটুনি দেয়, তারা আমাদের দেশের গবাদি পশুর সংখ্যা ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।

ভারত মার্কিন চুক্তি প্রসঙ্গে দেশের পোশাক খাতের ক্ষতির বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, মোদী সরকার ১৮% শুল্ককে “ঐতিহাসিক জয়” হিসেবে দেখালেও, মার্কিন-বাংলাদেশ চুক্তি এটিকে কৌশলগত আত্মসমর্পণ হিসেবে প্রকাশ করে। আমেরিকান তুলো ব্যবহারের জন্য ঢাকাকে কোনও শুল্ক দিতে হয়না। ওয়াশিংটন কার্যকরভাবে তাদের নিজস্ব লাভের জন্য ভারতীয় কৃষকদের তুলনায় বাংলাদেশকে উৎসাহিত করছে।

তিরুপুর এবং সুরাটের পোশাক ব্যবসার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের টেক্সটাইল হাবগুলি ১৮% করের জালে আটকা পড়েছে। আমাদের প্রতিবেশীদের কোনও শুল্ক নেই; এটি কি একটি জয়, নাকি জনসংযোগ দিয়ে আড়াল করা বিশ্বাসঘাতকতা, যা এপস্টাইন ফাইলসের বেদিতে ভারতের কৌশলগত জাতীয় স্বার্থ এবং রপ্তানি ব্যবস্থাকে বলি দিচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
'সংসদ কি এখন এলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের চেয়েও নিকৃষ্ট?' বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন জন ব্রিটাসের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
India US Deal: 'ওয়াশিংটন দিল্লির হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে...' - ভারত-মার্কিন চুক্তি নিয়ে আক্রমণে কংগ্রেস
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
India US Trade Deal: 'মোদীর অনুরোধে...' চুক্তি সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী জানিয়েছেন ট্রাম্প ও মোদী?

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in