India US Trade Deal: 'মোদীর অনুরোধে...' চুক্তি সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী জানিয়েছেন ট্রাম্প ও মোদী?

People's Reporter: রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, এম এ বেবীর মত শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশের দাবি জানান। মঙ্গলবার সংসদে বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, “মোদীজী দেশ বেচে দিয়েছেন।”
নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি - সংগৃহীত
Published on

ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ-এ ২ ফেব্রুয়ারি রাতে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে বিবৃতিতে তিনি নিজেই ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানিয়েছেন এবং বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুরোধে তিনি এই চুক্তি করেছেন। রাত ১০.২৮-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবৃতির আধঘণ্টা পরেই রাত ১১.০২ মিনিটে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতি প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও ট্রাম্পের বেশ কিছু দাবির সমর্থনে নিজের বক্তব্য কিছুই জানাননি প্রধানমন্ত্রী মোদী। দুই শীর্ষ নেতার দুই বক্তব্য ঘিরে তাই রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার বাজার ও টাকার দামে বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

ভারত মার্কিন চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলবার একদিকে যেমন শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়েছে অন্যদিকে ২০২১ সালের পর এই প্রথম ভারতীয় টাকার দাম অনেকটাই বেড়েছে। এদিন একসময় সেনসেক্স ২৪০০ পয়েন্ট বাড়ে এবং নিফটি বাড়ে ৭০০ পয়েন্টের বেশি। ভারতীয় টাকার দামও ফিরেছে ৯০ টাকার ঘরে। কূটনৈতিক দিক থেকে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে বলেই শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়েছে।

বিরোধীরা কী বলছেন?

তবে এই চুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য চুক্তির সম্পূর্ণ বিষয় প্রকাশ করতে হবে এবং সংসদে বিশদে আলোচনা করতে হবে। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, এম এ বেবীর মত দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব এই বিষয়ে পূর্ণ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এখনও পর্যন্ত সংসদে এই বিষয়ে বিতর্ক চলছে। যে বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী আজ বলেছেন, “মোদীজী দেশ বেচে দিয়েছেন।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন?

গতকাল রাতে ট্রুথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, “আজ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে কথা বলতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। তিনি আমার অন্যতম সেরা বন্ধু এবং তাঁর দেশের একজন শক্তিশালী ও শ্রদ্ধেয় নেতা। আমরা বাণিজ্য এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা সহ অনেক বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভবত ভেনিজুয়েলা থেকে আরও অনেক বেশি তেল কিনতে সম্মত হয়েছেন। এটি ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করবে, যে যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে!”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোষ্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোষ্টছবি ট্রুথ থেকে স্ক্রিনশট

ওই বিবৃতিতেই ট্রাম্প আরও লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার খাতিরে এবং তাঁর অনুরোধে, অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছি, যার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করবে। একইভাবে, ভারতও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের শুল্ক এবং অশুল্ক বাধাগুলো কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রী ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন শক্তি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্যের পাশাপাশি আরও উচ্চ স্তরে “আমেরিকান পণ্য কেনার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের সাথে আমাদের সুন্দর সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আমি এমন দুজন ব্যক্তি যারা কাজ সম্পন্ন করি, যা বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে বলা যায় না। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ফারাক কোথায়?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুরোধে’ এই চুক্তি করেছেন। পাশাপাশি এমন কিছু দাবি করেছেন যে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এমনকি তার বিবৃতির কিছুক্ষণ পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতেও সব বিষয় স্পষ্ট নয়। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে অথবা ভারত আরও বেশি করে আমেরিকান পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প একাধিক দাবি করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই ধরণের কোনও কথা আসেনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোষ্ট
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোষ্টপ্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেল থেকে স্ক্রিন শট

চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী জানিয়েছেন?

২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১.০২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে যে বার্তা দিয়েছেন তাতে লেখা আছে, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগল। আমি আনন্দিত যে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যগুলোর উপর শুল্ক এখন ১৮% নামিয়ে আনা হবে। এই চমৎকার ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ।”

তিনি আরও লিখেছেন, “যখন দুই বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতন্ত্র একসাথে কাজ করে, তখন তা আমাদের জনগণের জন্য উপকারী হয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য অফুরন্ত সুযোগের দরজা খুলে দেয়। বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত শান্তির জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন করে।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স বার্তায় জানিয়েছেন, “আমাদের অংশীদারিত্বকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।”

কেন স্বচ্ছতার অভাব মনে করছেন বিরোধীরা?

ভারত এবং আমেরিকা - দুই দেশের শীর্ষ নেতা নিজেদের বক্তব্য জানালেও ডোনাল্ড তাঁর বিবৃতিতে যা যা দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে চুক্তির কথা জানালেও সেই অর্থে ট্রাম্পের কোনও দাবিতেই লিখিতভাবে সম্মতি জানাননি। সম্ভবত, ঠিক এই জায়গা থেকেই দেশের বিভিন্ন বিরোধী দল চুক্তির বয়ান প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছে। দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যে আপাতদৃষ্টিতে স্বচ্ছতার অভাব আছে বলেই মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক মহল।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
Indo-US Trade Deal: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে চাঙ্গা সেনসেক্স - শর্ত প্রকাশের দাবি বিরোধীদের
নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
Nobel Peace Prize: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল পদক তুলে দিলেন মারিয়া করিনা মাচাদো

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in