নোবেল কমিটির নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে নিজের নোবেল পুরষ্কারের পদক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। এর আগেই নোবেল কমিটির কাছে করা মাচাদোর এক আবেদনের উত্তরে কমিটি জানিয়েছিলেন, এভাবে নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর করা বা ভাগ করে নেওয়া যায় না। যদিও মাচাদো নিজের পুরষ্কারের পদক ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তার প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে।
মারিয়া করিনা মাচাদোর হাত থেকে নোবেল পুরষ্কারের পদক পাবার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথে এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমি যে কাজ করেছি তার জন্য মারিয়া আমাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি উপহার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার কী এক চমৎকার নিদর্শন! ধন্যবাদ মারিয়া!”
মারিয়া মাচাদো এই বৈঠককে “চমৎকার” বলে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, এই উপহার দেওয়া হয়েছে ভেনিজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ।
পরে হোয়াইট হাউস ট্রাম্প এবং মাচাদোর ছবি পোস্ট করে, যেখানে প্রেসিডেন্টকে পদকটিসহ একটি বড়, সোনালি রঙের ফ্রেম হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়। ওই ছবির সাথে লেখা ছিল, “শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা।” সেখানে আরও লেখা ছিল এবং এই স্মারক প্রদানকে “ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার একটি ব্যক্তিগত প্রতীক” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পর দু’জনের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকের পর মারিয়া তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমরা আমাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণ্য করতে পারি। আমাদের মধ্যে আগামী দিনে আরও বৈঠক হবে।
নোবেল প্রাইজ হস্তান্তর প্রসঙ্গে এর আগেই মারিয়া মাচাদোর প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছিল নরওয়ে নোবেল ইন্সটিটিউট। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনোভাবেই হস্তান্তর করা অথবা কারোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় না।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড নিজেকে বারবার নোবেল শান্তি পুরষ্কারের দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। যদিও নোবেল কমিটি সেই দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রীকে ওই পুরস্কার দেয়।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মারিয়া মাচাদোর বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে বন্দী করার পর কার্যত ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী নেত্রী মাচাদো কোন কারণে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন